দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ হাসি হাসলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তীই। শনিবারের বারবেলায় বিধাননগর পুর নিগমের মেয়র পদে শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ দিনের এই ছায়াসঙ্গী।
এত দিন বিধাননগর পুর নিগমের চেয়ারম্যান ছিলেন কৃষ্ণা। তিনি মেয়র হওয়ায় নতুন চেয়ারম্যান হলেন আন্দামান নিকোবরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ মনোরঞ্জন ভক্ত-র মেয়ে অনিতা মণ্ডল।
শনিবারের এই অনুষ্ঠানের মধ্যে অবশ্য নতুন কোনও রহস্য ছিল না। কেন না কৃষ্ণা যে মেয়র হবেন সেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল আগেই। বরং এ দিনের ছবিটা ছিল দেখার মতোই। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেও সব্যসাচী এখনও তৃণমূলের কাউন্সিলর। কিন্তু তিনি এখন দেশে নেই। পূর্ব ইউরোপে ছুটি কাটাচ্ছেন। কৃষ্ণার অভিষেক মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার, মন্ত্রী সুজিত বসু, উত্তর চব্বিশ পরগনার তৃণমূল জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রমুখ। বিধাননগরের উন্নয়নের লক্ষ্যে যাঁদের সকলের মুখে ছিল ঐক্যের বার্তা। মেয়র পদে শপথ নেওয়ার পর কৃষ্ণা চক্রবর্তীও বলেন, “একা আমি কেউ না। আমার হলাম টিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”।
শপথ নিয়ে কৃষ্ণা বলেন, "এই চেয়ারে বসে মানুষকে পরিষেবা দেওয়াটাই একমাত্র কাজ। আরও কী ভাবে বেশি সংখ্যক মানুষকে আমরা পরিষেবা দিতে পারি, সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে পথ চলবে বিধাননগর পুর নিগম "। একই সঙ্গে নতুন মেয়র বলেন প্লাস্টিক বর্জন ও জল সংরক্ষণে নতুন নতুন কর্মসূচি নেওয়া হবে পুরনিগমের পক্ষ থেকে।
যদিও তৃণমূলের মধ্যে এখনও অনেকের সন্দেহ রয়েছে, এই টিম শেষমেশ বিধাননগরে কতটা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে পারবে। বিশেষ করে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়, স্থানীয় বিধায়ক সুজিত বসু, মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস জানা থেকে শুরু করে মেয়র পদের জন্য যখন প্রকাশ্য দাবিদার এত জন, তখন ঐক্য ধরে রাখা কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কাছে চ্যালেঞ্জও বটে। তা ছাড়া দেশে ফিরে সব্যসাচীই বা খেলা দেখাবেন তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে দলের মধ্যে।
তৃণমূলের এক নেতার কথায়, মেয়র পদে কৃষ্ণাকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যে এখনও পর্যন্ত একটা পজিটিভ বার্তা দেখতে পাচ্ছি। তা হল, অনেক দিন পর দলের পুরনো কোনও নেত্রীকে গুরুত্ব দেওয়া হল। কৃষ্ণার সঙ্গে কালীঘাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের যোগ বহুদিনের। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে নাকি ছোটবেলায় কিক্কা বলে ডাকতেন। কৃষ্ণা নিজেই বলেন, ফ্রক পরা বয়স থেকে দিদির সঙ্গে রয়েছি। কিন্তু সল্টলেক কর্পোরেশন হওয়ার পর সব্যসাচী দত্তকে দিদি মেয়র করায় তাঁরও অভিমান হয়েছিল।
এ বারও কৃষ্ণার উত্থানের পথ সহজ ছিল না। তৃণমূলেরই উপরতলার একাংশ নেতা কখনও তাপস চট্টোপাধ্যায়কে কখনও বা সুজিত বসুকে মেয়র পদে বসানোর জন্য আদা জল খেয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু তাঁকে মেয়র পদে বসানোর জন্য জোরালো সওয়াল করেছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এক বৈঠকে দিদিকে তিনি বলেছিলেন, কৃষ্ণা বহু পুরনো লোক। ওঁকে মেয়র করলেই ভাল হবে। তাতে সমর্থন ছিল পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও।
এ দিন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর শপথের পর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, বিধাননগরে এ বার কাজের গতি আসবে। গত চার বছরে পরিষেবা অনেকটাই ব্যহত হয়েছে। চার বছরের কাজ এক বছরে করা সম্ভব নয়। তবু যতটা সম্ভব পরিষেবা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন নতুন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী।