শিলাবৃষ্টিতে মুর্শিদাবাদে ব্যাপক ক্ষতি ফসলের, মাথায় হাত চাষিদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মাঝেই ব্যাপক সমস্যায় মুর্শিদাবাদের সবজি চাষিরা। চড়া সুদে টাকা নিয়ে তাঁরা ফসল ফলিয়েছিলেন। তাঁদের আশা ছিল গরমের সময় ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করে উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে বর্ষার আগে ছাদ মেরামত করবেন। কেউ ভেবেছিলেন এই টাকা ম
শেষ আপডেট: 13 April 2020 04:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মাঝেই ব্যাপক সমস্যায় মুর্শিদাবাদের সবজি চাষিরা। চড়া সুদে টাকা নিয়ে তাঁরা ফসল ফলিয়েছিলেন। তাঁদের আশা ছিল গরমের সময় ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করে উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে বর্ষার আগে ছাদ মেরামত করবেন। কেউ ভেবেছিলেন এই টাকা মেয়ের বিয়ের জন্য সঞ্চয় করবেন। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে তাঁদের স্বপ্ন শেষ হতে বসেছে।
মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া ব্লকের রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শহরবাস, নিয়ামতপুর, সামলতপুর, রায়পুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ মূলত কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। অধিকাংশ কৃষকই জমিতে সবজি চাষ করেন। অন্যান্য চাষ তেমন না হওয়ায় সবজি চাষের উপরই নির্ভর করেন এই সব এলাকার চাষিরা। এবছরও সবজি চাষ করতে অধিকাংশ চাষি ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পাওয়ার জন্য অনেকে আবার সোনার গয়না জমা রেখেছিলেন। তবে শনিবার বিকেলে কালবৈশাখীর দাপটে ফসলের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। বেগুনচাষে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য সবজিরও ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁরা বুঝতে পারছেন না কী ভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন।

কালবৈশাখীর সঙ্গে ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে সমস্ত সবজি গাছের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে, সবজি চাষ করতে ধার করতে হয়েছে সার ও আনুষঙ্গিক জিনিসের দোকানেও। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই সব ঋণ পরিশোধ করাও এখন তাঁদের কাছে চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেগুন চাষের। এই অবস্থায় সরকারি সাহায্যের দিকেই তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষের জমি পরিদর্শনে যান রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ জানারুল শেখ ও হরিহরপাড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মির আলমগির পলাশ। ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষিদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁরা।
করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সারা দেশে লকডাউন চলছে। ফসল পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ছোট চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা এখন ফসল ঠিকমতো পাঠাতেই পারছিলেন না। এই অবস্থায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি তাঁদের আরও সমস্যায় ফেলে দিয়েছে।