দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ নিয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ডিরেক্টর অফ রিসার্চ ও ডিরেক্টর অফ এক্সটেনশন এডুকেশন—এই দু’টি পদে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর থেকেই । ইতিমধ্যেই এ নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরন্তন চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “সমস্ত নিয়োগ নিয়ম মেনেই হয়েছে।”
গত ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তির মধ্যে ডিরেক্টর অফ রিসার্চ ও ডিরেক্টর অফ এক্সটেনশন এডুকেশন পদ দুটিও ছিল। এই দু’টি পদের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। পদ দু’টিতে নতুন ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে অশোক চৌধুরী ও প্রভাত পালকে। বিজেপি সমর্থিত অধ্যাপক সংগঠনের দাবি, এই দু’জনেই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে একই পদে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদেরই আবার নিয়োগ করা নিয়ে দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির তরফে যে অভিযোগ রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনকড়কে জানানো হয়েছে, সেগুলি হল—এক, ডিরেক্টর অফ রিসার্চ ও ডিরেক্টর অফ এক্সটেনশন এডুকেশন পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বেশ কিছুদিন ধরেই নিযুক্ত ছিলেন অশোক চৌধুরী ও প্রভাত পাল। তাঁরা দু’জনেই পদত্যাগ করেন ডিসেম্বরের ১০ তারিখ। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ। প্রশ্ন উঠেছে, কী করে বিজ্ঞপ্তির ঠিক আগে আগেই এই দু’জন একইসঙ্গে একই দিনে পদত্যাগ করলেন ।
দুই, কলকাতাতে ইন্টারভিউ হয় ২৩ ডিসেম্বর। পরের দিন অর্থাৎ ২৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা ইসি বৈঠক ডেকে তড়িঘড়ি ওই দুই পদে অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়। এটা কি নিছকই কাকতালীয়? নাকি সবটাই আগে থেকে ঠিক করা ছিল? প্রশ্ন বিজেপির।
বিজেপির আরও অভিযোগ, ওই দু’জন ছাড়া নাকি আর কেউ ইন্টারভিউই দেননি। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজেপি সমর্থিত অধ্যাপক সংগঠনের নেতা ডঃ সুবিনয় রায় জানান বলেন, “নিয়োগের পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।” তাঁর কথায়, ডিরেক্টর অফ রিসার্চ পদে যোগ্যতা হিসেবে ৫ বছরের প্রশাসনিক পদে কাজ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু যাঁদের স্থায়ী ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের সেই যোগ্যতা নেই। তিনি আরও বলেন, “এই সমস্ত পদের নিয়োগ করতে গেলে স্ক্রুটিনি কমিটি গঠনের কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় বলা আছে। কারা স্ক্রুটিনি করলেন তাও স্পষ্ট নয়।”
নিয়োগ হওয়া অশোক চৌধুরী বলেন, সমস্ত নিয়ম মেনেই তিনি আবেদন করেছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরন্তন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন । বিশ্ববিদ্যালয় সমস্ত নিয়ম-নীতি মেনে নিয়োগপত্র দিয়েছে।”