দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণ ভাবে লোকের যে শারীরিক সক্ষমতা থাকে তা তাঁর নেই। তবে বর্ধমানের কেষ্ট দাসের আছে অদম্য মনের জোর। তাই হাতে টানা সাইকেল নিয়ে খিদিরপুর থেকে তিনি রওনা হয়েছিলেন বর্ধমানের দিকে। প্রায় একশো কিলোমিটার রাস্তা।
লকডাউনের মধ্যেই বাড়িতে যাওয়ার কথা ভাবেন কেষ্ট দাস। ভরসা বলতে নিজের হ্যান্ড সাইকেল। ছ’নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে বালির দিকে যাওয়ার সময় সলপের কাছে ভেঙে যায় তার হ্যান্ড সাইকেলটি। রাস্তায় আটকে পড়েন প্রতিবন্ধী কেষ্ট দাস। কোনও দোকান খোলা নেই যে সাইকেল সারিয়ে নেবেন।
সেই সময়ে বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তাঁর পাশে দাঁড়ালেন। বর্ধমানগামী একটি সব্জির গাড়ি থামিয়ে তাতেই তুলে দিলেন কেষ্ট দাসকে। তুলে দিলেন তাঁর হ্যান্ড-সাইকেলটিকেও। রাস্তায় যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তাঁকে দিলেন খাবার ও জল। কিছু টাকাও হাতে দিলেন।
কেষ্ট দাসের কথায়, “এই হ্যান্ড সাইকেলে ভরসা করেই খিদিরপুরে আমি লজেন্স বিক্রি করি। তাতে যা আয় হয় সেই টাকার কিছুটা বাড়িতে পাঠাই এবং কিছুটা নিজের কাছে রেখে দিই খাই-খরচা হিসাবে কিন্তু হঠাৎ লকডাউনে সব কিছু যেন গোলমাল হয়ে যায়। এখন রোজগারের রাস্তা বন্ধ। পকেটে যতটুকু টাকা ছিল সে সব ফুরিয়ে গেছে। তাই শেষমেষ বাধ্য হয়েই হ্যান্ড সাইকেলে বর্ধমান যাব ভেবেছিলাম।”
পথে বিপত্তি। খারাপ হয়ে যায় সাইকেল। তার পরে হাওড়া জেলার বাঁকড়া ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা ত্রাতার ভূমিকা নেন। তিনি রওনা হতে পারেন বাড়ির দিকে।
এর আগে লকডাউনে আটকে পড়া তিন শ্রমিক পরিবারের ন’জনকে পেঁয়াজের ফিরতি গাড়িতে মহারাষ্ট্রের নাসিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন খড়্গপুর সদরের পুলিশকর্মীরা।