দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে তান্ত্রিক ভেকধারীদের কথায় বাড়ির ঈশানকোণ খুঁড়তে শুরু করেছেন বাসিন্দারা। হাওড়ার আমতা ও উদয়নারায়ণপুর, হুগলির মেমারি থেকে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর – বিভিন্ন জায়গায় লোকজন মাটি খুঁড়তে শুরু করেছেন কাঠকয়লার সন্ধানে। কোনও তান্ত্রিকের কথায় এমন হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জামালপুরের ঘটনা থেকে জানা গেছে যে কোনও এক ব্যক্তি নিজেকে ‘তারকেশ্বরের তান্ত্রিক’ বলে পরিচয় দিয়ে এই উপায় বাতলেছেন। উদয়নারায়ণপুর-আমতাও তারকেশ্বর থেকে দূরে নয়। একই ব্যক্তি এই বুজরুকির নেপথ্যে আছেন কিনা তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। আমতা, উদয়নারায়ণপুর, মেমারি ও জামালপুর মূলত গ্রামীণ এলাকা।
ইতিমধ্যেই এইসব জায়গায় ঈশানকোণ খুঁড়ে সেখান থেকে কাঠকয়লা বের করে তা গায়ে মাখার ধুম পড়ে গেছে। প্রচার করা হচ্ছে যে এই কাঠকয়লা মাখলেই পালিয়ে যাবে করোনাভাইরাস।
শোনা যাচ্ছে জামালপুর থেকে দাবানলের মতো গুজব ছড়িয়ে পড়েছে দামোদর অববাহিকার অনেকটা অংশ জুড়ে। লোকে বাড়ির ঈশানকোণে কাঠকয়লা খুঁজছেন এবং তা পেলেই হইহই করে উঠছেন।
ঈশানকোণে কাঠকয়লা পেলে অনেকে ভক্তিভরে জয়ধ্বনি দিচ্ছেন। তারপরে শুরু করে দিচ্ছেন গায়ে মাখা। জনসমাগম দূরের কথা এখন ছোঁয়াচ এড়াতে ধর্মস্থানে পর্যন্ত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তখন এমন প্রচারে লোকজন কেন কান দিচ্ছেন সেটাও প্রশ্ন।
বাড়ির ঈশানকোণে কাঠকয়লা পাওয়া খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়। বাড়ি করার আগে অনেকেই পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলেন এবং তিনি ‘বাস্তুদোষ’ কাটানোর পরামর্শ দিলে সেই মতো হোম-যজ্ঞ করা হয়। হোম-যজ্ঞের পরে কাঠকয়লা পুঁতে দেওয়া হয় ঈশানকোণে। এটাই সংস্কার। হয়তো বহু কাল আগে তৈরি কোনও বাড়িতে এখনও লোকে বসবাস করছেন। কে কবে যজ্ঞ করেছিলেন সেকথা নতুন প্রজন্মের জানা সম্ভব নাও হতে পারে। বাড়ির ঈশানকোণ খুঁড়লে কাঠকয়লা পাওয়া তাই আশ্চর্য ব্যাপার নয় এবং এর সঙ্গে তন্ত্রের কোনও যোগ নেই।
লোকে অবশ্য এত কিছু তলিয়ে না ভেবেই মাটি খুঁড়তে শুরু করে দিচ্ছেন এবং কাঠকয়লা পেলে তা মাখছেন। যেখানে দশ মিনিট অন্তর সাবান দিয়ে ধুয়ে হাত পরিষ্কার রাখার কথা বলা হচ্ছে সেখানে বুজরুকি করে লোককে আরও অসুস্থ করার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে একশ্রেণীর জালিয়াত। হয়তো এনিয়ে তারা ব্যবসাও করতে শুরু করে দেবে।
দুুপুর গড়ানোর আগেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকে। সেখানেও লোকজন বাড়ির ঈশানকোণ খুঁড়তে শুরু করেন কাঠকয়লা বের করার জন্য।
এখন বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে সাফাই অভিযান। রাস্তাঘাটে জীবাণুনাশক ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন গ্রামপঞ্চায়েত ও পুরসভার পক্ষ থেকে। মাটির নীচে অনেক সময় জীবাণু থাকে। তাই তা খুঁড়ে বার না করাই শ্রেয় বলে মনে করছেন সচেতন লোকজন।