দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া পুর নিগমেও এবার করোনাভাইরাসের থাবা। এবার দুই আধিকারিক ও বেশ কয়েক জন কর্মীর আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। পুর নিগমের ডেপুটি কমিশনার (২) অরুণাভ দাস করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। একই দিনে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে অর্থ বিভাগের নিয়ামক বা কন্ট্রোলার অব ফিনান্স অরুণাভ ঘোষের। এই দুই বিভাগের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েক জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীও করোনায় আক্রান্ত বলে হাওড়া পুর নিগম সূত্রে জানা গেছে। সূত্রের খবর, অন্তত কুড়ি জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এই খবর শুনে এদিন হাওড়া পুর নিগমের বহু কর্মী ও আধিকারিক শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা ফাইল গুটিয়ে বাড়িতে চলে যান। আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে সব কর্মীর মধ্যেই। তাঁরাও একে একে অফিস ছাড়তে শুরু করেন। এই অবস্থায় শুক্রবার থেকে পুর নিগমের প্রধান কার্যালয় খুলবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এখনও অবশ্য প্রধান কার্যালয় বন্ধের কথা ঘোষণা করেনি পুর প্রশাসন। তবে তারা জানিয়ে দিয়েছে, অধিকাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। অনেককে বরো অফিস থেকে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন ধরনের কর ও অনুমোদনের যে সব কাজ সরাসরি পুর নিগমের প্রধান কার্যালয় থেকে হয় সেই কাজ কী ভাবে হবে বা আদৌ হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি।
এমনিতেই হাওড়া পুর নিগমের প্রধান কার্যালয় যে এলাকায় সেটি কন্টেনমেন্ট জোনের মধ্যে রয়েছে। সেখান থেকে কার্যত ঢিল ছোড়া দূরত্বে চিন্তামণি দে রোডে ইতিমধ্যেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই অবস্থায় পুর নিগমে এক সঙ্গে এত জনের করোনা সংক্রমণের খবরে কপালে ভাঁজ পড়েছে পুর প্রশাসনের।
মে মাসের গোড়া থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হাওড়ার হরিজন বস্তিতে সব মিলিয়ে তিরিশ জনের বেশি লোকের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই বস্তির বাসিন্দাদের বড় অংশ হাওড়া পুরনিগমের সাফাই কাজের সঙ্গে যুক্ত। পরে প্রাক্তন মেয়র পারিষদ গৌতম চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হন। সম্প্রতি সাত নম্বর ওয়ার্ডের সি রোডে বেশ কয়েক জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
আগেই হাওড়া পুর এলাকার বহু অঞ্চল কন্টেনমেন্ট জোন বলে ঘোষিত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিকেল থেকে সম্পূর্ণ লকডাউন চালু হয়ে গেছে। হাওড়া জেলায় সংক্রামিতের সংখ্যাও ঊর্ধ্বমুখী।