দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া পুর এলাকার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে একের পর এক করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরেও এলাকাটিকে এখনও কোয়ারেন্টাইন জোন বলে ঘোষণা করা হয়নি। বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তার কোনও দিক বন্ধ করা হয়নি। এমনকি এলাকার বাইরে কোনও বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি। তাতে এলাকার আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। না জেনে বাইরের অনেকেই সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন। বারুইপাড়ার ওই এলাকায় ঢোকার মুখে দালালপুকুর বাজারও বসছে নিয়মিত। সব দোকানপাট খোলা। এমনকি চায়ের দোকানে লোকজনকে সকালে ভিড় করতেও দেখা গেছে।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারুইপাড়া এলাকায় কিছুদিন আগে এক ব্যক্তির শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর শেষকৃত্যের পরে জানা যায় যে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। (রিপোর্টে স্পষ্ট ভাবে করোনার কথা উল্লেখ না করে 'অসম্পূর্ণ' বলে উল্লেখ করা ছিল। যার অর্থ আরও একবার তাঁর পরীক্ষা করা দরকার ছিল। এই অবস্থায় কেউ মারা গেলে সাধারণ ভাবে করোনা পজিটিভই ধরা হচ্ছে।) অভিযোগ, এই খবর পাওয়ার পরেও তাঁর পরিবারের লোকজন দল বেঁধে গঙ্গার ঘাটে যান। কয়েক দিন পরে ওই মৃত ব্যক্তির এক ভাইয়ের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি এখন কোঠারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর বাড়ির লোকের সোয়াব পরীক্ষা শুরু করা হয় তার পরেই। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট সাতটি রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাঁদের অধিকাংশই এখন হাসপাতালে ভর্তি। ওই বাড়ির অন্য সদস্যদেরও সোয়াব পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট এখনও আসেনি। আশপাশের বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা যাওয়া হয়েছে। মৃতের এক প্রতিবেশীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তিনি অবশ্য হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
এই এলাকায় রাস্তার মুখে বাজার দোকান সবই খোলা রয়েছে। আশপাশের এলাকার মানুষ চাইছেন প্রশাসন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করুক। এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবাংশু দাস জানিয়েছেন, “এলাকা স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। ওই পরিবারের সকলকেই বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। সেদিন যাঁরা শ্মশানে গিয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেককে এখন বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।” এ ব্যাপারে চ্যাটার্জিহাট থানা জানিয়েছে যে তারা স্বাস্থ্য দফতরে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে জানানো হলে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ করবে। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, “কেন এখনও এলাকাটিকে কোয়ারেন্টাইন জোন ঘোষণা করা হয়নি তা খোঁজ নিয়ে দেখছি। যাতে ওই এলাকাকে কোয়ারেন্টাইন জোন করা হয় তার ব্যবস্থা করছি।”
এই এলাকায় গণসংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে বলে আশপাশের এলাকার লোকজন আশঙ্কা করছেন।
রাজ্য সরকারের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী হাওড়া জেলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৫,৫৩৯ জন সংক্রামিত হয়েছেন। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩,৬৮৭ জন। এপর্যন্ত কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ১৫৪ জনের। বর্তমানে জেলায় কোভিড পজিটিভের সংখ্যা ১,৬৯৮।