দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: লকডাউনের জেরে ব্যবসা শিকেয় উঠেছে। বসত বাড়ি বন্ধক রেখে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাঙ্ক থেকে লোক এসে যে কোনও সময় উচ্ছেদ করতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় সপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি দিলেন হাওড়ার ডোমজুড় এলাকার এক ট্রাভেল ব্যবয়ায়ী। যদিও এই খবর জানার পরে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে ছেলের চিকিৎসার জন্য টাকা মঞ্জুর করলেন বিডিও।
করোনা সংক্রমণ রুখতে যখন রাজ্যে লকডাউন শুরু হয় তখনই তাঁর ট্রাভেলসের ব্যবসা কার্যত শিকেয় উঠে যায়। ঘরে অভাবের মাত্রা এখন এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে পরিবারের তিন জনের চিকিৎসার খরচ জোগানো দূরের কথা খাবারও জোটাতে পারছেন না। এই অবস্থায় সপরিবারে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন ডোমজুড়ের মাকড়দহ এলাকার ব্যবসায়ী শৈবাল দত্ত।
শৈবালবাবু ট্রাভেলসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। লকডাউনের জেরে তাঁর ব্যবসা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। স্ত্রী ছাড়াও বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা ও মা। তাঁর বাবা হৃদরোগী। মা কিডনির অসুখে ভুগছেন। পনেরো বছরের ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। এছাড়াও রয়েছে আট বছরের এক মেয়ে। একে ব্যবসায় মন্দা তার ওপর বাড়ির লোকের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিক ভাবে প্রচণ্ড সঙ্কটে পড়ে যান শৈবাল দত্ত। তখন অন্য কোনও উপায় না দেখে নিজেদের বসত বাড়িটি ব্যাঙ্কে বন্ধক রেখে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। শর্ত অনুযায়ী ব্যাঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাপ দিতে শুরু করেছে।
অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে এখন যে কোনও মুহূর্তে ব্যাঙ্ক ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে। এখন ওষুধপত্র কেনা দূরে থাক খাবার কেনার ক্ষমতাও হারিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। এই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছেন। স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন সপরিবারে আত্মহত্যা করবেন।
শেষ চেষ্টা করতে সাহায্যের আশায় তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং স্থানীয় বিধায়ককে চিঠি লিখেছেন। অভিযোগ, তাঁদের থেকে কোনও সাহায্যের আশ্বাস পাননি। পরে ডোমজুড়ের বিডিওর কাছেও সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। বিডিও রাজা ভৌমিক একথা শুনে জানান ওই পরিবারের পাশে প্রশাসন রয়েছে।
সোমবার তিনি ডেকে পাঠান শৈবালবাবুকে। তাঁর কাছেই তাঁর সমস্যার কথা শোনেন। জেনে নেন কোন ব্যাঙ্কের কোন শাখায় কত টাকা ঋণ আছে। মা ও বাবার চিকিৎসার জন্য মাসে কত খরচ হয় সেকথাও জেনে নেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য তখনই এক হাজার টাকার ব্যবস্থা করে দেন। খাবারের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে তিনি পদক্ষেপ করেছেন। ওই ব্যক্তির জীবিকা নিয়ে কী করা যায় সে ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছেন বলে জানিয়েছেন।