পুলওয়ামা: চেনা নম্বর থেকে ফোন আসে না, তাই মোবাইল নিজের কাছে রাখেন না শহিদ বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের কাজে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে তবে তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে। পুলওয়ামার বর্ষপূর্তিতে একথা বললেন শহিদ বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা সাঁতরা। যুদ্ধের ফলে শুধু ধ্বংসই হয়, তাই মিতা চান প্রতিবেশীর সঙ্গ
শেষ আপডেট: 14 February 2020 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের কাজে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে তবে তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে। পুলওয়ামার বর্ষপূর্তিতে একথা বললেন শহিদ বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা সাঁতরা। যুদ্ধের ফলে শুধু ধ্বংসই হয়, তাই মিতা চান প্রতিবেশীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় বাবলু সাঁতরা শহিদ হওয়ার পর থেকে মূলত হুগলির উত্তরপাড়াতেই থাকেন মিতা সাঁতরা। সেখানে বসেই বলছিলেন কথাগুলো।
গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় শহিদ হন বাবলু সাঁতরা। সেই ঘটনার পরে এক বছর পরে পার হয়ে গেছে। তারপর থেকে মোবাইল ফোনে বাজেনি সেই রিংটোনটা। অনেক বারই মোবাইল ফোন বেজেছে মিতার কিন্তু ফোন আসেনি সবচেয়ে চেনা সেই নম্বরটা থেকে। ওই নম্বরের জন্য তিনি আলাদা একটা রিংটোন সেট করে রেখেছিলেন।
আজকাল তিনি আর নিজের কাছে মোবাইল ফোন বড় একটা রাখেন না। যে নম্বর থেকে ফোন আসবে বলে অপেক্ষা করে থাকতেন একদিন, সেই নম্বরটা এখন বন্ধ। সেই নম্বরটা থেকে ফোন আসবে না আর কোনও দিন। তাই ফোনটা নিজের কাছে রাখার তাগিদ তিনি অনুভব করেন না। এক বছরে অনেক কিছু বদলেছে, বদলায়নি মিতার মন। একদিন অপেক্ষায় থাকতেন কবে বাড়ি ফিরবেন বাবলু। সেই প্রতীক্ষার অবসান হবে না কোনও দিন।

বাবলুর নিথর দেহটা ফিরেছিল কফিনবন্দি হয়ে। সামরিক সম্মান তিনি পেয়েছেন। ক্রোধের আগুনে সারা দেশের মানুষের চোখের জল সেদিন বাস্প হয়ে গিয়েছিল। মিতার চোখ সেদিন ভিজেছিল বিরহে।
কফিনের ঢাকনা খুলে শেষ বারের মতো দেখার সুযোগ পাননি সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে। শেষ বারের মতো স্পর্শ করতে পারেননি তাঁর পা, শেষ বারের মতো ধরতে পারেননি তাঁর হাত। সেই ব্যথা যে ভোলার নয়। একরত্তি মেয়েটাও আর কোনও দিন পাবে না বাবার স্নেহভরা হাতের স্পর্শ।
মানসিক বিপর্যয় তাই আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মিতা। শহিদ বাবলু সাঁতরার স্মরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল হাওড়ার উলুবেড়িয়া। তিথি মতে ৩ ফেব্রুয়ারি শহিদ বাবলু সাঁতরার বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন মিতা, তবে সবিনয়ে ফিরিয়েছেন আজকের সব আমন্ত্রণ, অনুরোধ। শুক্রবার উত্তরপাড়ার ভদ্রকালীতে বাপের বাড়িতেই ছিলেন মিতা।
বালাকোটে প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে পুলওয়ামার। সারা দেশের আবালবৃদ্ধবণিতার ঘৃণাভরা ক্রোধ তাতে কিছুটা শান্ত হয়। তবে মিতা বলেন, “যুদ্ধ শুধু ধ্বংসই করে না, মানবসম্পদেরও অনেক ক্ষতি করে।” স্বামীর মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণ হয়েছে বলে জানান মিতা।
সংসারে এখন টাকার অভাব তাঁদের নেই। অভাব আছে শুধু একজন মানুষের যেটা কোনও দিন পূরণ হবে না। ঝড় এসেছিল, বয়ে চলেও গেছে। সেই ঝড়ে যা হারিয়ে গেছে তা ফিরবে না কোনও দিন। সেকথা জানেন মিতা। জীবন থেমে থাকে না, মিতাও থেমে নেই। তিনি চলেছেন স্মৃতিটুকু সম্বল করে।