দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর এক মাস চার দিন। এর মধ্যেই বিজেপির মোহ কাটিয়ে ফের তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র। বৃহস্পতিবার দুপুরেই কলকাতায় বিপ্লববাবুর হাতে পতাকা তুলে দেওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মারা যাওয়ার কারনে এদিন সেই কর্মসূচি হচ্ছে না বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। তবে দু'একদিনের মধ্যেই এই যোগদান পর্ব হবে বলে জানা গিয়েছে।
গত বছর ২৫ জুন। নয়াদিল্লির বিজেপি সদর দফতরের ছবির স্মৃতি এখনও তাজা। শুধু বিপ্লববাবু নন। ১৮ সদস্যের উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের ১০ জন সদস্য তাঁর পিছু পিছু দিল্লি চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের হাতে পতাকা ধরিয়ে মুকুল রায় বলেছিলেন, “বাংলার রাজনীতিতে ভূমিকম্প হয়ে গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে জেলা পরিষদ ছিনিয়ে নিলাম আজ।” তারপর বিজেপি অফিসের লবিতে দাঁড়িয়ে বিপ্লববাবুর সে কী বিপ্লব—‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে গণতন্ত্র নেই, তোলাবাজি চলছে, দেশজোড়া বিকাশের অংশীদার হব’…ইত্যাদি প্রভৃতি। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের ঘুরে গেলেন তিনি।
জেনে রাখা ভাল, সরকারি ভাবে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদ বিজেপি দখল করতে পারেনি। কারণ বিজেপিতে যাওয়া ১০ জনের মধ্যে চার জনকে কয়েক দিনের মধ্যেই ফের তৃণমূলে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অর্পিতা ঘোষরা। বিপ্লববাবু তাঁদের বিজেপিতে ধরে রাখার মতো সাংগঠনিক তাকত দেখাতে পারেননি। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে দক্ষিণ দিনাজপুরে তৃণমূলের যখন ভরাডুবি হয়েছিল তখন বিপ্লবকেই দায়ী করেছিল দল। জেলার ৬ টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। একুশের ভোটের আগে এখন তাঁকে আবার কাছে টানা শুরু হয়েছে।
গত লোকসভা ভোটে বালুরঘাট আসনে বিজেপির কাছে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। এই পরাজয়ের পিছনে তৎকালীন তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের হাত ছিল বলে শাসকদলের একাংশের অভিযোগ ছিল। কেন না অর্পিতাকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছিল বিপ্লব ও তাঁর অনুগামীদের। তাঁরা চেয়েছিলেন বিপ্লবকে টিকিট দিক কালীঘাট। ফলাফল খারাপ হতেই অর্পিতার পরাজয়ের দায়ভার বর্তায় বিপ্লব মিত্রর উপর। জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেন দিদি। সভাপতি করা হয় ভোটে হেরে যাওয়া অর্পিতাকে। যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ উত্তম ঘোষকে। সেখানকার দায়িত্বে আনা হয় অর্পিতা অনুগামী অম্বরীশ সরকারকে।
এখন প্রশ্ন, বিপ্লববাবুর বিজেপির প্রতি মোহ ভঙ্গের কারণ কী?
যোগদানের পর সাংবাদিক সম্মেলনে হয়তো তার ব্যাখ্যা দেবেন আইনজীবী নেতা। কিন্তু জেলার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সাংসদ সুকান্ত সরকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারছিলেন না বিপ্লব। বিজেপিতে এক কোণেই পড়ে থাকতে হচ্ছিল তাঁকে। তা ছাড়া বিজেপির কাছে নিরাপত্তা বলয় চেয়েও পাননি বলে জানা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এক বছরের মধ্যেই বিজেপির সংশ্রব ছাড়তে চলেছেন তিনি।
একটি সূত্রের মতে, বিপ্লবকে দলে ফেরানোর জন্য গত কয়েক মাস ধরেই সক্রিয় তৃণমূল। সম্ভবত, তার শর্ত মেনেই জেলার সভাপতি পদ থেকে অর্পিতাকে সরিয়ে গৌতম দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই গৌতম দাস খাতায় কলমে গঙ্গারামপুরের কংগ্রেস বিধায়ক। ১৬-র ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে জিতেছিলেন তিনি। পরে তাঁকে তৃণমূলে নিয়ে আসেন বিপ্লববাবুই। যে গৌতমকে একদিন বিপ্লব তৃণমূলে এনেছিলেন, আজ সেই বিপ্লবকেই তৃণমূলে ফেরাচ্ছেন গৌতম। জেলা সভাপতি হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে।