দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনেক ট্রেন এবং প্রায় এক হাজার বাসে করে অভিবাসী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে বিদেশ থেকে ফিরতে চাওয়া বাঙালিদের ব্যাপারে জানিয়েছিল। রাজ্য সে ব্যাপারে প্রস্তুত বলে সরকারের তরফে দিল্লিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধেবেলা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই চিঠিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট লেখেন, ভিন্ রাজ্যে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে চাইছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়াক পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নইলে তাঁদের প্রতি বড় অবিচার করা হবে।
গতকাল রাতেই জানা গিয়েছিল, বিভিন্ন রাজ্য থেকে আটটি ট্রেনে বাংলার শ্রমিকদের ফেরানোর পরিকল্পনা করেছে নবান্ন। এদিন আলাপনবাবু জানান, ১০টি ট্রেনে কেরল, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক থেকে বাংলার শ্রমিকদের ফেরানো হবে।
তা ছাড়াও বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, অসম, সিকিমে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকদের ফেরাতে এক হাজার বাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃন্দাবন, মথুরা এবং বারাণসীতে আটকে থাকা তীর্থযাত্রীদেরও ফেরানোর বন্দোবস্ত রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। রবিবার একটি ট্রেন তেলেঙ্গানা থেকে মালদহে পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে তাঁর কাছ থেকে।
প্রতিবেশী রাজ্য থেকে অনেক শ্রমিক পায়ে হেঁটে রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তে চলে আসছেন বলে এদিন জানান আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মেডিক্যাল স্ক্রিনিং করার পর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন তিনি।
রাজ্য সরকার যে এন্ট্রি অ্যাপ করেছে তার মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করে ইতিমধ্যেই ছোট গাড়ি ও বাসে করে প্রায় ২০ হাজার লোক অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। আরও বেশ কিছু লোক দু-একদিনের মধ্যেই রাজ্যে ফিরবেন ছোট গাড়ি করে। তাঁরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন আলাপনবাবু।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভিন্ রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ফেরানো নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক চাপানউতোর হয়েছে। বিজেপি, বাম, কংগ্রেস একযোগে অভিযোগ করে, এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে, কিচ্ছু করছে না। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে কথা বলে রাজ্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, রেলমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন অন্য রাজ্যের নোডাল অফিসাররা বাংলার নোডাল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও নবান্ন কোনও সাড়াশব্দ দিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে সরকারের অনেকের মত, এটা একটা বিপুল কর্মযজ্ঞ। শ্রমিকদের ফেরানোর ক্ষেত্রে নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও। সরকারকে সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
এতদিন পর্যন্ত নবান্নের তরফে কবে কোন রাজ্য থেকে কতগুলি ট্রেন বাংলার কোন কোন স্টেশনে পৌঁছবে তা নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে বলা হয়নি। শুধু বলা হচ্ছিল পর্যায়ক্রমে অভিবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার কাজ চলবে। অনেকের বক্তব্য, জনমানসে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছিল। সেই চাপেই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার।