দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ঘোষণা করেছিলেন, তিরুঅনন্তপুরমের কোথাও কোথাও গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। গতকাল আইএমএ-এর তরফেও বলা হয়েছিল, সারা দেশেই গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার প্রায় একই সুরে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাতেও কোথাও কোথাও গোষ্ঠী সংক্রমণ তথা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে।
সেই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতেই রাজ্য সরকার সপ্তাহে দু’দিন গোটা বাংলায় পুরোপুরি লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সপ্তাহে বৃহস্পতি ও শনিবার লকডাউন কার্যকর হবে বাংলায়। আগামী সপ্তাহে বুধবার লকডাউন হবে সারা রাজ্যে। আরও এক দিন কী বার লকডাউন হবে তা আগামী সোমবার বৈঠকের পইর চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন আলাপনবাবু।
গত কয়েকদিন ধরেই সারা দেশের মতো বাংলাতেও সংক্রামিতের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। রোজই প্রায় দু’হাজারের বেশি মানুষ ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। আলাপনবাবু জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন রাজ্যে গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। অর্থাৎ একজন সংক্রামিত হলে বোঝা যাচ্ছে না তিনি কার থেকে সংক্রামিত হয়েছেন। যার মোদ্দা কথা, সংক্রমণের উৎস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আগের দিনই মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সংক্রমণ বাড়বে জেনেই রাজ্য সরকার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। তাঁর কথায়, “করোনা যে স্পিডে এগোচ্ছে, রাজ্য সরকার তার চেয়ে বেশি স্পিডে এগোচ্ছে।”
এদিন স্বরাষ্ট্রসচিবও বলেন, বহু জায়গায় বেড বাড়ানো হচ্ছে। নতুন হাসপাতলকে কোভিড চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেফ হোমে অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্সের পরিকাঠামোও ঢেলে সাজা হচ্ছে। গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ইসলামিয়া হাসপাতাল, আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের মতো জায়গাগুলিকে পুরোপুরি করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হবে।
তবে গোষ্ঠী সংক্রমণের কথা শুনে অনেকেই আতঙ্কিত বোধ করছেন। কারণ, ইতালি, স্পেন,আমেরিকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর কার্যত মড়ক লেগেছিল। যদিও আলাপনবাবু এদিন জানিয়েছেন, গোষ্ঠী সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে ‘সাডেন ব্রেক’ দরকার। সে জন্যই সপ্তাহে দু’দিন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।