
শেষ আপডেট: 28 May 2020 17:36
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব বা আমলারাও হয়তো চান লকডাউনের মেয়াদ বাড়ুক এবং চলাফেরা, পরিবহণ, দোকান বাজার খোলার ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ থাকুক। নইলে কোভিডের সংক্রমণ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা থাকবে। কিন্তু তাঁরা এও চান, সেই পদক্ষেপ কেন্দ্র জানাক। কারণ, এর রাজনৈতিক দায় রাজ্য সরকার নিতে চায় না।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রেস কনফারেন্স ও ভিডিও কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছে—‘কেন্দ্র লকডাউন করেছে’, বা কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি ইদের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গেও তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা নিইনি।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজ্যে লকডাউনের শর্ত ঠিকমতো মানা হচ্ছে না বলে এর আগে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল যখন তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, তখন কিন্তু তার পাল্টা হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। কেন্দ্রের তিন দিন আগে রাজ্য লকডাউন ঘোষণা করেছে।
তবে সে সব এক মাস আগের কথা। তার পর তিন দফায় লকডাউনের মেয়াদ বেড়েছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হয়তো বুঝতে পারছেন লকডাউন বা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক মানুষের জীবিকা নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মনে অসন্তোষও তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই দায় সরকারের উপরেই এসে পড়বে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে রাজ্য সরকারকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চাইছেন তিনি। যাতে লকডাউনের জন্য বা তা নিয়ে কোনও সমস্যার জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় কেন্দ্রের ঘাড়েই চাপে।