দ্য ওয়াল ব্যুরো: উচ্চমাধ্যমিকের ফল বিভ্রাট নিয়ে এবার নয়া সমস্যার সম্মুখীন উচ্চশিক্ষা সংসদ। স্কুলগুলির অভিযোগ, পর্ষদ দফতরে যোগাযোগ করলে তাঁদের কাছে 'মুচলেকা' নেওয়া হচ্ছে। মুচলেকায় লিখতে বলা হচ্ছে, স্কুলের পাঠানো ফলে গোলমাল ছিল। সেটা সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে সংসদ। এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছে না বহু স্কুল। বিষয়টিতে তাঁরা শিক্ষা দপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
স্কুলগুলির দাবি, তাঁদের তরফে কোনও ভুল করা হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি ভুল করেছি বলে মুচলেকা দেওয়া হয়, তাহলে স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা স্থানীয় এলাকার লোকজনের ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন।
উত্তর শহরতলির একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘গত দু’দিন পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। স্কুলের খাতাপত্র দেখিয়ে তাঁদের বলেছি, কী নম্বর পাঠানো হয়েছে, আর পর্ষদ কী পাঠিয়েছে।’
তাঁর দাবি, তাঁরা কোনও ভুল করেন নি। তাহলে কেন মুচলেকা। অধিকাংশ স্কুলের বক্তব্য, মুচলেকা দেওয়ার কথা জানাজানি হলে, পড়ুয়াদের কাছে তাঁরাই অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।
যাদবপুর বিদ্যপীঠের প্রধানশিক্ষক, পরিমল ভট্টচার্য এবিষয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদে মুচলেকার বিষয়টি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যেতে পারে। গোটা পরিস্থিতির জন্য সংসদ দায়ি। তাঁর বক্তব্য, একাদশের ফলাফল গতবছর মে মাসে সংসদে পাঠাতে বলা হয়েছিল। যে স্কুলগুলি তখনও পাঠায়নি, তাঁদের সংসদ একবারও তাগাদা দেয়নি। আর যারা পাঠিয়েছিল, তাঁদের বহু পড়ুয়া অকৃতকার্য হয়েছে। যদি পরীক্ষা হত, তাহলে সব ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেত। তা যখন হচ্ছে না, তখন ধরে নেওয়া হয়েছিল সকলেই উত্তীর্ণ। কারণ স্কুল কখনও অনুত্তীর্ণদের নাম পাঠাতো না। সংসদ তাহলে কীভাবে তাঁদের ফেল করায়। তিনি বলেন, ‘অনেক অভিভাবক এসে এবিষয়ে আমায় হুশিয়ারি দিচ্ছেন, কিন্তু আমি নিরুপায়।’