দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া আদালতের আইনজীবীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
হাওড়া কর্পোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে হাওড়া আদালতের আইনজীবীদের ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধেছিল গত ২৪ এপ্রিল। সেই ঘটনার তদন্তের জন্য বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট এক সদস্যের কমিটি গঠন করল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কল্যাণজ্যোতি সেনগুপ্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাওড়া কাণ্ডের তদন্তের জন্য। বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার এবং বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানিয়েছেন, যতদিন না তদন্ত রিপোর্ট জমা দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কল্যাণজ্যোতি সেনগুপ্ত, ততদিন হাওড়ার পুলিশ কমিশনার বিশাল গর্গ-সহ সাত পুলিশ আধিকারিক কোনও কাজ করতে পারবেন না। রাজ্যকে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিশাল গর্গ ছাড়া বাকিরা হলেন, ভাবনা গুপ্ত, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার গোলাম সারওয়ার, অতিরিক্ত কমিশনার ভিএসআর অনন্তনাগ, হাওড়া থানার ওসি রাজর্ষি দত্ত এবং হাওড়া থানার দুই সাব ইনস্পেক্টর বিতেন তামাং ও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত এ-ও স্পষ্ট করেছে, পুলিশ যে এগারোটি এফআইআর দায়ের করেছে ওই দিনের ঘটনায়, তার ভিত্তিতে এই তিনমাস পুলিশ কোনও তদন্ত করতে পারবে না।
বিচারপতি সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন জানিয়ে দিয়েছে, বিচারকের অনুমতি না নিয়ে আদালত চত্বরে ঢুকে পুলিশের লাঠি চালানোর ঘটনা প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার বিশাল গর্গ-সহ সাত আধিকারিককে হাওড়া জেলায় কোনও কাজ দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
সে দিনের পর থেকেই সারা রাজ্যের বিচার প্রক্রিয়া স্তব্ধ। কর্মবিরতি চালাচ্ছিলেন আইনজীবীরা। এ দিনের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে বৈঠক করবে বার কাউন্সিল। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
ঘটনার সূত্রপাত ২৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ। প্রথমে কর্পোরেশনের পার্কিং লটে ঝামেলার সূত্রপাত। তা থেকে শুরু হয় বচসা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা হাতাহাতির পর্যায় পৌঁছে। এবং শেষমেশ খণ্ডযুদ্ধ। উকিলরা ঢুকে পড়েন কর্পোরেশনে। পুরকর্মীদের সঙ্গে শুরু হয় মুখোমুখি সংঘর্ষ। রক্তাক্ত হন বেশ কয়েক জন আইনজীবী। আহত কর্পোরেশনের কর্মীরাও। আহত এক মহিলা পুরকর্মীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হাওড়া হাসপাতালের দিকে রওনা দিলে, সেই অ্যাম্বুলেন্সের চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জেরেই চলছে কর্মবিরতি। এখন দেখার আজকের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পরে কী করেন আইনজীবীরা।