দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে উদ্যোগী হয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সিউড়িতে জেলার পুলিশ প্রশাসন স্বাস্থ্য দফতর ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী আশিস বন্দোপাধ্যায় ও চন্দ্রনাথ সিনহা, বিধায়ক নীলাবতী সাহা, মইনুদ্দিন শামস, আব্দুর রহমান লিটন, জেলা পরিষদের মুখ্য পরামর্শদাতা অভিজিৎ সিংহ ও অন্য আধিকারিকরা।
বীরভূম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ঢুকতেই বদলে গেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মানচিত্র। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৩৪৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত যাঁদের শরীরে করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে তাঁদের সিংহভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। পরিযায়ী শ্রমিক এবং ভিন রাজ্য থেকে আসা মানুষজনের থেকে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় সেজন্য উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন।
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশ মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যের। তাই এই সমস্ত রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নন-হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রয়োজন মতো দুটো থেকে চারটে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হচ্ছে। সেখানে থাকা মানুষজন যাতে বাইরে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে না পারেন তার জন্য তাঁদের হাতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে আঙুলে কালি লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য রাজ্য থেকে আসা মানুষজনের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সকলের উপরে নজরদারির জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুটি করে মোটরবাইক দেওয়া হচ্ছে। সিভিক ভলান্টিয়ার সেই নজরদারির কাজে নিযুক্ত থাকবেন। এছাড়াও আশা কর্মীরা আগের মতো নজরদারি করে যাবেন। পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় স্তরের কাজকর্ম শুরু করে দেবেন। প্রতিটি ব্লকে স্থানীয় বিডিও, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, থানার ওসি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি এলাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রামিত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
বুধবার পর্যন্ত ২৪ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক বীরভূম জেলায় ফিরে এসেছেন। রামপুরহাট মহকুমায় সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে আরও চল্লিশ শয্যার করোনাভাইরাস হাসপাতাল করা হয়েছে যদিও এর আগে বোলপুরে আরও একটি চল্লিশ শয্যার হাসপাতালে ছিল। করোনাভাইরাস আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করার জন্য দুর্গাপুরের সনকা হাসপাতালে এবার থেকে এই জেলায় সংগৃহীত লালারসের পরীক্ষা করা হবে এবং কিছুদিনের মধ্যে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় সেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা পরিষদের মুখ্য পরামর্শদাতা অভিজিৎ সিংহ বলেন, “ভিন রাজ্যে ফেরত এবং তাঁদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রামিতদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেবিষয়ে এদিন বৈঠক হয়ছে।”