দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচারের অভিযোগে ধৃত আসানসোলের ব্যবসায়ী এনামুল হককে ছ’দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে পারবে সিবিআই, এমনটাই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সিবিআইয়ের আবেদন মেনে এই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের কাছে সিবিআই আবেদন করে, এনামুলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জেরা করতে চাইছে তারা। সেই আবেদন মেনে নেন বিচারপতি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনামুলকে নিজেদের হেফাজতে নিতে পারবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। জানা গিয়েছে, এই নির্দেশের পরে আসানসোল থেকে এনামুলকে কলকাতায় নিয়ে আসবে তারা। অবশ্য সেইসঙ্গে আসানসোল আদালতের যে সরকারি কৌঁসুলি সিবিআইয়ের তরফে এই মামলায় ছিলেন, তাঁর ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।
গত ১১ ডিসেম্বর আসানসোলের সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পণ করে গরুপাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত এনামুল হক। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নিজের বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে আদালতে চলে আসে এনামুল। সিবিআই আধিকারিকরা উপস্থিত হওয়ার আগেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে সে।
নভেম্বরের গোড়ায় দিল্লি থেকে গ্রেফতার করার পর এনামুলকে কলকাতায় এনে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা ছিল সিবিআইয়ের। কিন্তু ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য এনামুলকে আদালতে তোলার পর সিবিআইয়ের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এনামুলের আইনজীবীরা তার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করেন। এর পর এনামুলকে শর্ত সাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দেয় দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালত।
এনামুল কোভিড পজিটিভ জানার পরেই সিবিআই নির্দেশ দিয়েছিল, ১৪ দিনের জন্য হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে এনামুলকে। নজরদারিতেই থাকবে সে। কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তবেই আদালতে হাজিরা দিতে হবে তাকে। তারপরেই গত শুক্রবার আত্মসমর্পণ করে এনামুল।
ইতিমধ্যেই গরুপাচার কাণ্ডে এক বিএসএফ অফিসার সতীশ কুমারকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। গত মাসের ১৭ তারিখে ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআই। তারপরে বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ড্যান্ট, ডেপুটি কম্যান্ড্যান্ট ব়্যাঙ্কের দুই অফিসার-সহ মোট ৪ জনকে তলব করে সিবিআই। গত মঙ্গলবার, নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেন দুই বিএসএফ আধিকারিক। জানা গেছে, প্রয়োজনে গরু পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা এনামুলকে এই অফিসারদের সামনাসামনি বসিয়ে জেরা করতে পারে সিবিআই।