দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের এক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো রাজ্য রাজনীতিতে। রবিবার সকালে একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় হুগলি জেলার আরামবাগের গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের সক্রিয় বিজেপি কর্মী গণেশ রায়ের দেহ। ৬০ বছরের গণেশবাবুকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করে ওভাবে গাছে দেহ ঝুলিয়ে রেখে গিয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
রবিবার সাত সকালে গোঘাট রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় গণেশ রায়ের। তাঁর বাড়ি গোঘাটের খানাটি গ্রামে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় গোঘাট থানায়। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে এসে উপস্থিত হন গণেশবাবুর পরিবারের লোকেরাও। ভিড় জমে যায় সেখানে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গিয়েছে বলে খবর।
পুলিশের কাছে গণেশ রায়ের পরিবারের লোক অভিযোগ করেছেন, তাঁকে খুন করে গাছে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। শাসক দলের দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন গণেশবাবু। কিন্তু তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রবিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে গোঘাট রেল স্টেশন সংলগ্ন একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। অথচ এর আগে বাড়ির বাইরে গেলে সবাইকে জানিয়েই যেতেন গণেশবাবু। তাহলে শনিবার কেন কাউকে না জানিয়ে গেলেন তিনি।
গণেশবাবুর দুই ছেলে দিনমজুরের কাজ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন গণেশবাবু। সবাই তাঁকে ভালবাসতেন। ফলে এলাকায় প্রতিপত্তি কমছিল তৃণমূলের। তাঁরা জানিয়েছেন, আগেও অনেকবার তাঁদের বাবাকে খুনের হুমকি দিয়েছে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা। শনিবার গণেশবাবুকে অপহরণ করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে মেরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
বিজেপির তরফেও একই অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই ঘটনা এখানেই শেষ হবে না। তাঁরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করবেন। এভাবে একের পর এক বিজেপি নেতা-কর্মীদের প্রাণ চলে যাচ্ছে কেন তার জবাব শাসক দলকে দিতে হবে। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
https://twitter.com/BJP4Bengal/status/1304997507928174592
অন্যদিকে বিজেপির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পারিবারিক বিবাদ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে এই ঘটনা ঘটতে পারে। আবার গণেশবাবু আত্মহত্যাও করে থাকতে পারেন। পুলিশের উপর তাঁদের ভরসা রয়েছে বলেই জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তদন্ত করলেও প্রকৃত সত্যি বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে গত ১৩ জুলাই বাড়ি থেকে দু’ কিলোমিটার দূরে বালিয়ামোড় এলাকায় একটি বন্ধ থাকা মোবাইলের দোকানের বারান্দায় ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে জানালেও মৃত বিধায়কের স্ত্রী চাঁদিমা রায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও প্রশাসন সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি নিলয় সিংহ ও মাবুদ আলি নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও প্রতারণার মামলায় আইপিসি ৩০৬/৪২০/১২০ ধারা লাগু করে শুক্রবার রায়গঞ্জ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। যদিও সিআইডির চার্জশিট দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রয়াত বিজেপি বিধায়কের স্ত্রী।