দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড-১৯ মহামারী কত দিনে শেষ হবে তা এখনই কেউ বলতে পারছেন না। এই অবস্থায় আগামী ১ জুলাই থেকে শর্তসাপেক্ষে পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। জিটিএ এলাকার অধীনে যত হোটেল রয়েছে সে সবই খুলে যাবে ওই দিন। তবে সমস্ত হোটেলকে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিধিনিষেধ (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি) মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যে নিয়মনীতি আরোপ করেছে তা মেনে চলা হবে। বলে জানানো হয়েছে।
জিটিএর পর্যটন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সুরজ শর্মা এ দিন বলেন, “এখানে অধিকাংশ মানুষই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে পর্যটনের উপরে নির্ভরশীল তাই এ ব্যাপারে আমাদের ভাবনা-চিন্তা করতেই হবে।” তিনি জানিয়েছেন সম্প্রতি একটি বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জিটিএ, জেলাপ্রশাসন, পুলিশ, হোটেল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।
তিনি জানিয়েছেন জিটিএ এলাকায় প্রবেশের বিভিন্ন মুখে থার্মাল স্ক্রিনিং পয়েন্ট বানানো হবে। উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, কার্সিয়াং, মিরিক ও দার্জিলিংয়ের প্রবেশপথ হল সিমুলবাড়ি। সেখানে থার্মাল স্ক্রিনিং পয়েন্ট হবে। একই ভাবে কালিম্পং, সিতং ও মংপুর প্রবেশপথ হল কালিঝোরা। সিকিম থেকে লোকে প্রবেশ করেন রম্ফু দিয়ে। হোটেলে যেখান দিয়ে পর্যটকরা প্রবেশ করেন সেখানেও থার্মাল চেকিং পয়েন্ট করা হবে। তাঁরা যেখান থেকে আসছেন সেই এলাকার মেডিক্যাল সেন্টারের মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখতে হবে প্রত্যেক পর্যটককে। মানতে হবে অন্যান্য নির্দেশিকাও।
পর্যটকরা হোটেলের ঘর ছাড়ার পরে সেই ঘর ২৪ ঘণ্টা ফাঁকা রাখতে হবে। সেই সময়ের মধ্যে ওই ঘর স্যানিটাইজ করতে হবে। হোটেল ও তার সংলগ্ন এলাকা নিয়মিত ভাবে স্যানিটাইজ করতে হবে। সর্বত্র মাস্ক আবশ্যিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে। যে সব গাড়িতে পর্যটকরা আসবেন সেই গাড়িতে যত জন বসার কথা তার অর্ধেককে বসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ১ জুলাই গঙ্গামায়া পার্ক, রক গার্ডেন ও টাইগার হিল সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র খুলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জিটিএ। আপাতত হোটেলগুলিকে গ্রুপ বুকিং না করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন হোটেল ও হোমস্টেগুলির কাছে লোকে ফোন করে বুকিংয়ের ব্যাপারে জানতে চাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু উপযুক্ত নির্দেশিকা না থাকায় কেউ বুকিং নিতে পারছিলেন না। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের বুকিংয়ের জন্যও লোকে ইতিমধ্যেই জানতে চাইছেন। এঁদের বেশির ভাগই অবশ্য পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।