দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শুক্রবার সিএজি রিপোর্টে বলা হয়েছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার জিএসটি ক্ষতিপূরণের টাকা রাজ্যগুলিকে না দিয়ে অন্য খাতে খরচ করেছে। ঠিক সেদিনই জিএসটি-র সুদের বকেয়া টাকা না মেটানোয় পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া পুরসভার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটল। যা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
অভিযোগ, কাটোয়া পুরসভাকে কিছু না জানিয়ে সরাসরি কাটোয়ার স্টেট ব্যাঙ্কের শাখায় চিঠি দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই আচরণকে 'তুঘলকি' বলে তোপ দেগেছেন পুরপ্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এর জেরে পুরসভার পরিষবা বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার মুখে সুদ মুকুবের বললেও বাস্তবে তা করছে না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ করার ঘটনার কথা রাজ্যের পুরদপ্তরে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথবাবু।
পুরসভার বক্তব্য, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে পুরসভা এলাকায় জিওর অপটিক ফাইবারের কেবল পাতা হয়েছিল। সেই কাজ বাবদ ২০১৭ সালে ২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি দফতরে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৯ সালে জিও কোম্পানি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি গেজেট নোটিফিকেশনের চিঠি দিয়ে পুরসভাকে জানিয়ে দেয় জিএসটি বাবদ পুরো টাকাটাই কেন্দ্রীয় অর্থ দফতর মুকুব করে দিয়েছে। এরপরই এদিন জানা যায়, কাটোয়া স্টেট ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়ে পুরসভার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার নির্দেশ পাঠিয়েছে জেলার জিএসটি দফতর।
এই সময়ে ৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বকেয়া আছে বলে জানিয়েছে জিএসটি দফতর। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু কাটোয়া পুরসভা নয়। একই নির্দেশে বর্ধমান ও কালনা পুরসভার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজড করা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "জিও কোম্পানি যখন কেন্দ্রীয় সরকারের চিঠি উল্লেখ করে টাকা মুকুবের কথা বলছে সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার গা জোয়ারি করে আমাদের না জানিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিল। নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে কোনও পদ্ধতি.না মেনে ইচ্ছে মতো বুলডোজার চালাচ্ছে এটা তার অন্যতম উদাহরণ।