দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ বছর আগে ট্রেনের কামরা থেকে চুরি গিয়েছিল মানিব্যাগ। সেই ব্যাগ ফিরে পেতে নিয়মিত তদারকি করেছেন মুম্বইয়ের হেমন্ত পদলকার। শেষ পর্যন্ত সেই টাকার ব্যাগ তিনি ফিরে পেয়েছেন। কিন্তু তাতে খুশি হবেন কি, উল্টে সমস্যা বেড়ে গেছে। তাঁর ব্যাগে মোট ৯০০ টাকা ছিল। তা তিনি পেয়েছেন ঠিকই। তবে সমস্যায় পড়েছেন ব্যাগে থাকা একটি ৫০০ টাকার নোট নিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের নোটবন্দির ফলে সেই নোট এখন অচল।
বছর বিয়াল্লিশের হেমন্ত পদলকার জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে তিনি পানভেল যাওয়ার জন্য ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস স্টেশন থেকে একটি লোকাল ট্রেনে ওঠেন। বাশি নামক স্টেশনের কাছে তিনি দেখেন যে পকেটমারি হয়েছে। চুরি গেছে তাঁর মানিব্যাগ। বাশি স্টেশনে নেমে তিনি স্থানীয় জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করেন। শুরুর দিকে তিনি বারবার খোঁজ নিতেন। জিআরপির পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞেসও করতেন তাঁর হারানো মানিব্যাগ উদ্ধার করা গেছে কিনা। এক সময় তিনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। তাও বেশ কিছু দিন হয়ে গেল সে কথা এক রকম ভুলতেই বসেছিলেন।
এত বছর পরে এপ্রিল মাসে বাশি জিআরপি থেকে তিনি ফোন পান। সেখান থেকে জানানো হয় তাঁর মানিব্যাগ পাওয়া গেছে। লকডাউনের জন্য তখন অবশ্য থানায় যেতে পারেননি। গত সপ্তাহে সেখানে যান। কিন্তু এবার নতুন বিপত্তি। এক আধিকারিক তাঁকে জানান, জিআরপি তাঁর মানিব্যাগ উদ্ধার করেছে ঠিকই কিন্তু তার মধ্যে যে ৫০০ টাকার নোটটি আছে, সেটি দেওয়া যাবে না। কারণ সরকারি ভাবে সেটি বাতিল নোট।
তাহলে নোটটির কী গতি হবে? বাশি জিআরপি থেকে ওই ৫০০ টাকার নোটের ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠানো হয়েছে তবে এখনও উত্তর তাঁরা হাতে পাননি। তাঁরা জানিছেন এর আগেও চুরি যাওয়া বেশ কয়েকটি মানিব্যাগ উদ্ধার হয়েছে যেখানে ৫০০ টাকার বাতিল নোট রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যতক্ষণ পর্যন্ত এ ব্যাপারে তাঁদের কিছু জানাচ্ছে ততক্ষণ ৫০০ টাকা নোটটি রেলপুলিশের হেফাজতেই থাকবে।
এত দিন পরে টাকার ব্যাগ ফেরত পেলেন ঠিকই কিন্তু তাতে হেমন্ত পদলকার কতটা খুশি হয়েছেন তা বলা বেশ মুশকিল।