দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষা শুরু হতে না হতেই সাপের উপদ্রব শুরু হয়ে গেছে জলপাইগুড়ি জেলায়। সোমবার রাতে ময়নাগুড়ি লোকালয় থেকে উদ্ধার হল একটি গ্রিন ক্যাট স্নেক। মঙ্গলবার সেটিকে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রাক বর্ষা তো বটেই বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে প্রায় পুরো জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে। ছোট নালা থেকে নদী – সবেতেই জল বাড়ছে। সাপের গর্তে জল ঢুকে যাচ্ছে। তার ফলে সাপের উপদ্রব বাড়তে শুরু করছে।
ময়নাগুড়ি ঝাঝাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মনোরঞ্জন সরকার সোমবার রাতে শোওয়ার আগে বাড়ি ঢোকার দরজা আটকাতে গিয়ে লক্ষ করেন উঠোনে থাকা একটি বেল গাছে পেঁচিয়ে আছে সবুজ রঙের একটি সাপ। সেটি ক্রমে এক ডাল থেকে অন্য ডাল হয়ে তাঁদের শোওয়ার ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সঙ্গে সঙ্গেই তিনি খবর দেন ময়নাগুড়ির পরিবেশকর্মী নন্দু রায়কে। তিনি গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করলে স্বস্তি ফেরে এলাকায়। নন্দু রায় বলেন, “এটি একটি গ্রিন ক্যাট স্নেক। সাধারণত গরুমারা ও অন্য গভীর জঙ্গলে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এটি বিষধর সাপ হলেও এর বিষ অন্য সবুজ রঙের সাপ যেমন গ্রিন ভাইপারের মতো মানুষের নিরিখে প্রাণঘাতী নয়। ব্যাঙ ও অন্যান্য শিকারকে নিস্তেজ করতে এরা বিষ প্রয়োগ করে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে তাই কোনও ভাবে নদীর জলে ভেসে এখানে চলে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা ওই সাপটিকে গৃহস্থের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে বন দফতরকে জানিয়ে আজ জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি।”
জলপাইগুড়ি জেলায় নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। তারা প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক সময় লোকে সেগুলি মেরে ফেলত। তবে এখন তারা বন দফতর বা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের খবর দেয়।
অনারারি ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, "আমরা সচেতনতা অভিযান করেছি। তার ফলে এখন লোকে বন্যপ্রাণী দেখলে আমাদের বা বিশেষজ্ঞদের খবর দেন। লোকে সচেতন হওয়ার ফলে বন্যপ্রাণীদের হত্যা করা জেলায় অনেক কমেছে।"