দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবহ মুখোপাধ্যায়কে দেখতে মল্লিকবাজার ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে যাচ্ছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।
ইটের আঘাতে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব ভেঙেছিল এনআরএস-এর ইন্টার্ন পরিবহ মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাত থেকে মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে ভর্তি ছিলেন ডোমজুড়ের বাসিন্দা এই তরুণ। মৃত্যুকে ছুঁয়ে ফিরে এসেছেন বছর ২৬-এর পরিবহ। দু'ঘণ্টার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। পরিবহও নিজেও বলেছেন তিনি ভালো আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছিল সেই ভিডিও।
গত সোমবার রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল নীল রতন সরকার হাসপাতাল। মৃত্যু হয় ৮৫ বছরের মহম্মদ সাহিদে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ আনে রোগীর পরিবার। নিমেষে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাসপাতাল চত্বর। রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তারদের ধুন্ধুমার বেঁধে যায়। দু'পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ইটের আঘাতে মাথার খুলিতে গুরুতর চোট পান পরিবহ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। ডাক্তারদের অভিযোগ, তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এমনকী লরি করে ২০০ লোক নিয়ে এসেছিল রোগীর পরিবার। সে সময় পরিস্থিতি না সামলে কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পুলিশ বলেও অভিযোগ আনেন ডাক্তাররা। এনআরএস-এ ডাক্তারদের আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে গর্জে ওঠে বাংলা। শহরের পাশাপাশি অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন জেলার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ডাক্তাররাও। জুনিয়রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররাও। গণ ইস্তফায় সামিল হয়েছেন তাঁরা। চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের আউটডোর।
নিরাপত্তার দাবিতে ডাক্তারদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন বাংলা সাধারণ মানুষ এবং বিশিষ্ট জনেরাও। পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন কলেজের বিভিন্ন বিভাগের পড়ুয়ারাও। সকলের একটাই দাবি, প্রশানকে এ বার ডাক্তারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই হবে। যাঁরা সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচান, এখন তাঁদের নিরাপদে রাখার সময় এসেছে। 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগানে গর্জে উঠেছেন সকলেই।