দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার দুর্দিনেও রাজ্যে গণবন্টন ব্যবস্থায় বড় দুর্নীতি হয়েছে শনিবার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ঘোষণা করা গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা বাংলায় কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না সে ব্যাপারেও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল নিজেই জানালেন, দেরিতে হলেও গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা বাংলায় চালু করতে রাজি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। এই যোজনায় আগামী তিন মাস বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “রেশন দুর্নীতি নিয়ে আমি সতর্ক করার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার অ্যাকশন মোডে এসেছে”।
কিন্তু এ কথা জানানোর পরই টুইট করে রাজ্য সরকারকে সতর্কও করতে চেয়েছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেছেন, “গণবন্টন ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার যে খাদ্য বন্টন করা হবে, তাতে যে সততা ও স্বচ্ছতা থাকে। রাজনীতি যেন তা হাইজ্যাক করে না নেয়”। তিনি এও বলেন, গণবন্টন ব্যবস্থায় যে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে তা যেন ভাঙার চেষ্টা করেন সরকারের অফিসাররা। কালোবাজারিরা যেন সুবিধা করতে না পারে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের শুরু করা বহু প্রকল্পই রাজ্যে গ্রহণ করে না বর্তমান সরকার। সে ব্যাপারে নবান্নের নিজস্ব যুক্তিও রয়েছে। যেমন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায় বাস্তবায়িত হয়নি। কিংবা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান প্রকল্পে খাতে চাষীদের যে বছরে ৬ হাজার টাকা করে কেন্দ্র দেয় তাও এ রাজ্যে শুরু হয়নি। করোনা সংকটের পরিস্থিতি গরিব কল্যাণ যোজনা শুরু করেছে কেন্দ্র। তাও শুরু করা নিয়ে নবান্নের ইতস্তত ভাব ছিল বলে অনেকের দাবি। কেন্দ্রের এই প্রকল্প যে রাজ্য মেনে নিয়েছে তাও নবান্নের তরফে ঘোষণা করা হয়নি। সেটাই আজ ঘোষণা করে দিলেন রাজ্যপাল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আসলে গরিবের কল্যাণের প্রশ্নেও কেন্দ্র-রাজ্য রাজনীতি রয়েছে। করোনা সংকটের পরিস্থিতিতে গরিব মানুষকে সুরাহা দিতে কেন্দ্র যে আর্থিক পদক্ষেপ করেছে, মোদী-অমিত শাহরা হয়তো চান তার কৃতিত্ব বিজেপিই পাক। সেই কারণেই ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ’ নামে আলাদা নামকরণও করা হয়েছে। কারণ, হয়তো তাঁদের আশঙ্কা রয়েছে, এই প্রকল্পগুলির রাজ্যের শাসক দল নিয়ে নিতে চাইবে। একই ভাবে রাজ্যের শাসক দলগুলি বিশেষ চায়, কৃতিত্বের যেন কোনও ভাগ না হয়।
সেই টানাপোড়েন পাশাপাশিই বাংলার রাজনীতিতে এখন নতুন বিষয় যে মাথা তুলছে তাও ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তা হল, রেশন ব্যাবস্থায় দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ। তাতে আরও অক্সিজেন যুগিয়েছে রাজ্যপালের এ ব্যাপারে মন্তব্য। শনিবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় অভিযোগ করেছিলেন করোনার এই তীব্র সংকটের সময়ে বাংলায় রেশন নিয়ে বড়সড় দুর্নীতি হচ্ছে। তিনি এও বলেন এটা এখনই না থামানো গেলে অতীতের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে যাবে।
বিজেপি বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ করছিল রেশন নিয়ে বাংলায় ব্যাপক দুর্নীতি চলছে। কেন্দ্রের চাল, ডাল, গম এফসিআই গুদামে পড়ে রয়েছে অথচ রাজ্য তা বিতরণ করছে না বলেও অভিযোগ করেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এমনকি বাম-কংগ্রেস নেতারাও বলেন, কেন্দ্রের খাদ্য শস্য পড়ে পড়ে গুদামে পচছে আর মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় ঘুরে মাস্ক পরানো শেখাচ্ছেন। রাজ্যের প্রবীণ এক কংগ্রেস নেতার কথায়, "কেন্দ্র থেকে যে চাল এসেছে তা প্রথম ইউপিএ সরকারের অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচির ফসল। কিন্তু এটা রাজনীতির সময় নয়। তাই আমরা এসব কথা বলতে চাই না। কেন্দ্রের চাল না রাজ্যের চাল, মোদীর চাল না দিদির চাল অভুক্ত মানুষের কাছে সেটা বড় নয়। খাবার পাওয়াটাই মুখ্য।"