দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায় যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীদের মুখে ‘গোলি মারো’ স্লোগানকে নিয়ে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বাংলায় এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য নেতারা এই স্লোগানের সমর্থনেই কথা বলেছেন। খানিকটা সেই সুরই শোনা গেল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের গলায়। এই ঘটনাকে তুচ্ছ ঘটনা বললেন তিনি।
সোমবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেইসময় তাঁকে সাংবাদিকরা এই গোলি মারো নিয়ে প্রশ্ন করেন। তার উত্তরে ধনকড় বলেন, “এটা তুচ্ছ ঘটনা। ১০০০ জনের মধ্যে ১ জন কিছু বললে সেটা আপনাদের কাছে ১০০ শতাংশ সেনসেশনাল হতে পারে কিন্তু সেটা আমার কাছে .০১ শতাংশ সেনসেশনাল। এই দেশ বিশাল দেশ। আমাদের দেশ এখন সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাই আমি সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেদন জানাচ্ছি নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য। এই দেশের শান্তি নষ্ট করার যারা চেষ্টা করছে, তারা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, বরদাস্ত করা যায় না। তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর দিন।”
রাজ্যপালের এই বক্তব্যের পরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, যেখানে রাজ্যের ছোট-বড় সব ব্যাপারে বক্তব্য রাখেন রাজ্যপাল, গণতন্ত্র বিপন্ন বলে দাবি করেন, সেখানে এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যকে তিনি তুচ্ছ ঘটনা বললেন কী ভাবে। তাহলে কি তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসকদল যে অভিযোগ তুলছে, সেটাই সত্যি। তিনি কি সত্যিই বিজেপির হয়ে কাজ করছেন, এমনই প্রশ্ন পর্যবেক্ষকদের।
এর আগে খানিকটা একই সুরে কথা বলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোমবার সকালে দিল্লি উড়ে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, “কে কী স্লোগান দিয়েছে আমি জানি না। তবে আগেও বলেছি, এখনও বলছি যারা দেশের সম্পত্তি নষ্ট করবে তাদের গুলি মারাই উচিত।”
অন্যদিকে এদিনই এই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের কর্মিসভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “দিল্লির ভাষায় কলকাতায় কথা বলা চলবে না। গতকাল আমি লক্ষ্য করেছি বাইরে থেকে কয়েকজন এসেছেন। ‘গোলি মারো’ বলেছেন। ভাষাটা অন্যায়, ভাষাটা দানবিক। তাই যারা এটা বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রবিবারের এই ঘটনার পর সোমবার নিউমার্কেট থানার পুলিশ ফুটেজ দেখে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের নাম সুরেন্দ্র কুমার তিওয়ারি, পঙ্কজ প্রসাদ ও ধ্রুব বসু। এই তিনজনের মধ্যে সুরেন্দ্র কুমার তিওয়ারি ও পঙ্কজ প্রসাদকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ব্যাঙ্কশাল আদালত। ধ্রুব বসু জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৫৩-এ, ৫০৫, ৫০৬ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এদিন তাদের আদালতে তোলার সময়ে দেখা যায় বড়বাজার এলাকার বেশকিছু বিজেপি কর্মী ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সামনে পৌঁছে গিয়েছেন। গাড়ি থেকে নামার সময়ে ধৃতদের উদ্দেশে ফুল ছুড়তেও দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের।