দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর তির যেন তাক করাই রয়েছে। ভূমিপুজো শুরু হওয়ার ঘণ্টা খানেক আগে অযোধ্যা থেকে ৮৭৬ কিলোমিটার দূরে কলকাতায় বসে রামমন্দির ইস্যুতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। আরও একবার মমতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় তোষণের অভিযোগ তুললেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।
এদিন টুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন, “আজকের এই দিনটির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে এমন ঐতিহাসিক রায়ের জন্য ধন্যবাদ।” এরপরেই ধনকড় লিখেছেন, “তোষণের পাকে-চক্করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামমন্দির নিয়ে নীরব হয়ে রয়েছেন। রাজ্যবাসীকে নিজের অবস্থান জানান।”
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1290881161510567936
মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে রাজ্যপালের এ হেন সমালোচনা বেনজির। শুধু বাংলা কেন অন্য রাজ্যেও অতীতে হয়েছে কিনা সন্দেহ। পর্যবেক্ষকদের অনেকের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীকে অযোধ্যা নিয়ে মন্তব্য করতেই হবে এমন কথা কোথায় লেখা রয়েছে। বরং প্রশ্ন ওঠা উচিত রাজ্যপালের এত আগ্রহ কেন?
অযোধ্যায় ভূমিপুজোর সকালে টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তাতে রামমন্দির প্রসঙ্গের উল্লেখ না করলেও সম্প্রীতির বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি। মমতা বলেছেন, দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য রক্ষায় তিনি শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত লড়বেন। মুখ্যমন্ত্রী টুইটে লেখেন, “হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান/একে অপরের ভাই-ভাই! আমার ভারত মহান,/মহান আমার হিন্দুস্তান! আমাদের দেশ তার চিরায়ত বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে, এবং আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষিত রাখব”।
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1290881479690485760
এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোষণের অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যপাল। করোনা সংক্রমণ পর্বের শুরুর দিকে এক দিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজারহাটের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে কতজন তবলিঘি ফেরত রয়েছেন? জবাবে মুখ্যমন্ত্রী খানিকটা রেগে গিয়েই বলেছিলেন, আমাকে সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন করবেন না। সেই প্রসঙ্গ তুলেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোষণ নিয়ে তোপ দেগেছিলেন রাজ্যপাল।
ধনকড় আরও জানিয়েছেন, রামমন্দির নির্মাণের ভূমিপুজো উদযাপন করতে রাজভবনে তিনি সন্ধেবেলা প্রদীপ জ্বালাবেন। কারণ তিনি মনে করেন, এই দিনটি প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে গৌরবের এবং স্বাভিমানের। পৃথক একটি টুইটে সংবিধানের মধ্যে থাকা রাম-সীতার ছবিও শেয়ার করেছেন রাজ্যপাল। বোঝাতে চেয়েছেন, ভারতীয় সংস্কৃতির একেবারে মূলে রয়েছেন শ্রীরামচন্দ্র।
রাজ্যপালের এহেন টুইট নিয়ে শাসক দলের তরফে কোনও বিবৃতি না দিলেও, তৃণমূল নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, রাজ্যপাল এত দিন মুরলীধর সেন লেনের বিজেপি অফিসের ভাষায় কথা বলছিলেন। আজ তো দেখছি আরএসএস-এর কেশব ভবনের নেতাদের মতো কথা বলছেন!