দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সংঘাত শুরু হতেই তাতে ঢাকনা চাপা দিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সপ্তাহ দুয়েক আগে সেই সময়ে অনেকে কপাল কুঁচকে বলেছিলেন, তাহলে কি নবান্নের চাপে মাথা নোয়াল রাজভবন?
বুধবার সকালে জোড়া টুইটে বুঝিয়ে দিলেন, ধনকড় আছেন ধনকড়েই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে রাজ্যপাল সরাসরি লিখলেন, রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন শাসক দলের ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও লিখেছেন, "এর শেষ দরকার। এটা বড়সড় গাফিলতি এবং একে কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।"
পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান লিখেছেন, "এর জন্য তাঁদের বড় মূল্য চোকাতে হবে। তাই আইন মোতাবেক কাজ করুন।"
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1270542420753571840?s=08
বাম, কংগ্রেস,বিজেপি-সহ বিরোধীদের এই অভিযোগ নতুন নয়। কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার আসার দেড় বছরের সময় থেকেই এই অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ২০১২ সালে রাজ্যের দুই প্রান্তের দুই কলেজে অধ্যাপক হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিল টিএমসিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। দেখা গিয়েছিল, রায়গঞ্জ কলেজে অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্রনেতারা জামিন পেয়েছেন আর নদিয়ার মাজদিয়া কলেজের বাম ছাত্রনেতাদের জেলে যেতে হয়েছে। সেই সময়ে রাজ্যে স্লোগানই উঠে গিয়েছিল, "দিদিমণির খেল/ রায়গঞ্জে বেল আর মাজদিয়াতে জেল।"
শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছর ধরে বিজেপিরও একই অভিযোগ। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, গ্রামেগঞ্জের কয়েক হাজার বিজেপি কর্মীকে নারকোটিক্স কেস দিয়ে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান।
রাজনৈতিক হিংসা ও ভোট লুঠ নিয়েও শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন জগদীপ ধনকড় । মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে রাজ্যপাল লিখেছেন, "রাজনৈতিক হিংসা, রিগিং বন্ধ হলে তবেই বাংলায় গণতন্ত্র টিকে থাকবে। গণতন্ত্র ছাড়া স্বাধীনতা থাকে না।"
মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কত মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। যে কোনও মূল্যে তা নিশ্চিত করতে হবে বলে টুইটে লিখেছেন ধনকড়। তাঁর কথায়, নীরব এবং বিজ্ঞানসম্মত রিগিং হতাশা তৈরি করছে।
রাজ্যপালের এই টুইট নিয়ে তৃণমূলের তরফে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে ঘরোয়া আলোচনায় শাসকদলের নেতারা বলছেন, বাংলার পুলিশ প্রশাসন মানুষের ক্যাডার হয়ে কাজ করছে। কিন্তু অমিত শাহের ভাষণ শুনে রাজ্যপাল বিজেপি নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।