দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলার প্রশ্নে বিরোধীরা যে ভাবে সরকারের সমালোচনা করছেন তাতে বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে দৃশ্যত মেজাজ হারিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট করে কারও নাম না করলেও বলেছিলেন, ‘শকুনের মতো তাকিয়ে রয়েছে কখন একজন মারা যাবে’। বৃহস্পতিবার তা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।
এ দিন তিনি বলেন, “এখন মাথায় ছাদ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। এ বার তো রাজনীতি বন্ধ করুন। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন যে, ‘বিরোধীরা শকুনের মতো আচরণ করছেন, মৃতদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন’ তা দেখে খারাপই লাগছে”। তাঁর কথায়, মানুষ যখন দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তখন কেন তিক্ততা বাড়ানো! এই সময়ে সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে কিছু সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এও বলেছিলেন, চাইলে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি, কিন্তু আমরা ভাল বলে কিছু বলি না। তা ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এই সংকটের পরিস্থিতিতেও কেউ কেউ ভুয়ো খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
বৃহস্পতিবার সেই প্রসঙ্গেই রাজ্যপাল বলেন, মিডিয়াকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। আমি দেখেছি, এবং দেখে খারাপও লেগেছে যে নানা ভাবে মিডিয়াকে কন্ট্রোল করা হচ্ছে। অথচ লুকনোর কিছুই থাকতে পারে না। তাঁর কথায়, “স্বাধীন সংবাদমাধ্যম হল মেরুদণ্ড, গণতন্ত্রের অপরিহার্য অঙ্গ। কেন তাদের চাপে রাখা হচ্ছে?”
শুধু তা নয়, রাজ্যপাল তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই বলেন ২০১১ সালে ইজিপ্ট, লিবিয়া, তিউনেশিয়াতে স্বেচ্ছাচারী শাসকদের গদিচ্যূত করতে মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অসামান্য।
রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি শাসক দল। বরং সূত্রের খবর, রাজ্যপালের প্রতিটি মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া না জানানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কারণ, দলের অনেকের মতে, রাজ্যপাল তৃণমূলকে বিতর্কে জড়াতে চাইছেন। তা এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়।