দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি জেলায় জেলায় সফর করা অব্যাহত রাখবেন বলে রাজ্যকে একপ্রকার কড়া বার্তা দিয়ে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। একইসঙ্গে বলে দিলেন, এ ব্যাপারে কারও কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
দু’মাস আগে শিলিগুড়ি থেকেই জেলা সফর শুরু করেছিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের ডাকা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না শাসক দলের কোনও জনপ্রতিনিধি। এমনকি পুলিশকর্তারাও গরহাজির ছিলেন রাজ্যপালের বৈঠকে। সে নিয়ে প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ধনকড়। এর মাঝে সরকার-রাজ্যপাল বহু সংঘাত দেখেছে বঙ্গ রাজনীতি। রাজ্যপালের এখানে সেখানে চলে যাওয়া নিয়ে এক্তিয়ার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তুলেছেন শাসক দলের নেতারা। কিন্তু সেই শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়েই রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান বলনে, “আমি সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি। আমার যেখানে মনে হবে যাব। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে যাওয়ার আমার এক্তিয়ার আছে। এর জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।” তাঁর কথায়, "আমি যা করছি সংবিধান মেনে করছি। মানুষের জন্য করছি।"
এর মধ্যে রাজ্যপাল উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন। পৌঁছেও গিয়েছিলেন সেখানে। কিন্তু প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা যাননি। তাই বৈঠকও হয়নি। সে নিয়ে শাসক দলের অনেকে বলেছিলেন, “রাজ্যপাল কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে গিয়েছেন!” এদিন রাজ্যপাল বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, আমি নাকি কাউকে না জানিয়ে গিয়েছি। এটা একেবারেই ঠিক নয়। আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি, রাজ্য সরকারকে জানিয়ে গিয়েছি। নাহলে সার্কিট হাউস ব্যবস্থা করল কী করে?”
গত সপ্তাহে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময়ে রাজ্যপাল হঠাৎই চলে গিয়েছিলেন সিঙ্গুর বিডিও অফিসে। সে নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তীব্র তোপ দেগেছিলেন ধনকড়ের বিরুদ্ধে। এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। এক মন্ত্রী রাজ্যপালকে কটাক্ষের সুরে বলেছিলেন, “উনি তো ‘দিদিকে বলো’-তে ফোন করতে পারেন!” এদিন শিলিগুড়িতে রাজ্যপাল বলেন, “কেউ কেউ বলছেন আমায় ‘দিদিকে বলো’-তে ফোন করতে। আমি কিছু বলছি না। মুখ্যমন্ত্রীর উচিত এঁদের নিয়ন্ত্রণ করা।”
রাজ্যপাল এদিন আরও বলেন, “আমি এই একশো দিনে মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক চিঠি লিখেছি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর থেকে একটিও চিঠি পাইনি।’ প্রসঙ্গত, জগদীপ ধনকড় রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নবান্ন-রাজভবন সংঘাত প্রায় রুটিনে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলে দিয়েছেন, ‘রাজ্যপাল বিজেপির পার্টি ম্যান !” এদিন ধনকড় সেই সংঘাতে আরও কিছুটা পারদ চড়িয়ে দিলেন বলেই মনে করছেন অনেকে।