দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁতশিল্পীদের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। লকডাউন উঠে গেলেও শাড়ি বিক্রি করতে পারছিলেন না শিল্পীরা। এই অবস্থায় তাঁতিদের পরিশ্রমে তৈরি করা শাড়ি বিক্রি সহজ করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ দফতর এবং বস্ত্র দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তন্তুজের সভাপতি স্বপন দেবনাথের উদ্যোগে বালুচরী শাড়ি সহ বিভিন্ন রাজ্যের তাঁতের শাড়ি সংগ্রহ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে সল্টলেকে তন্তুজের প্রধান কার্যালয়ে।
রাজ্যের নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি প্রভৃতি জেলাতেও বহু তাঁতশিল্পী রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই সমস্যায়। কোথাও কোথাও শাড়ির হাট খোলা হলেও বিক্রি তেমন হচ্ছে না। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর বালুচরী ও স্বর্ণচরী শাড়ির জন্য বিখ্যাত। জিওগ্রাফিক পেটেন্টও পেয়েছে এই শাড়ি। লকডাউনের ফলে যখন তাঁরা ক্রেতার অভাবে শাড়ি বিক্রি করতে পারছেন না তখন তাঁদের কাছ থেকে শাড়ি এনে তা প্রদর্শনের আয়োজন করেছে তন্তুজ। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে যে শাড়ি বিক্রি হলে টাকা দেওয়া হবে শিল্পীকে। শাড়ি বিক্রি না হলেও তন্তুজের তরফ থেকে সেগুলি কিনে নেওয়া হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে পঞ্চাশ থেকে ষাট জন শিল্পীকে বাসে করে নিয়ে আসা হয়েছে সল্টলেকে তন্তুজের প্রধান কার্যালয়ে। সেখানেই তিন দিন ধরে শাড়ি সংগ্রহ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
স্বপন দেবনাথ বলেন, “করোনার ফলে লকডাউন চলাকালীন রাজ্যের আট জেলার তাঁতিরা তাঁদের ঘরে যে সুতো মজুত ছিল তা দিয়ে সুন্দর সুন্দর শাড়ি তৈরি করেছেন কিন্তু বাজারে তার দাম পাচ্ছেন না। ফলত একটা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিলেন তাঁতশিল্পীরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বস্ত্র উন্নয়ন দফতরের তরফ থেকে সেগুলিকে ভর্তুকিতে কিনে নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তাঁরা ন্যায্য মূল্যে তন্তুজের সদর দফতর থেকে এগুলি সংগ্রহ করেন। সামনে পুজো। কী হবে কেউ জানে না। তবুও আর্থিক সাহায্যের জন্য তাঁতশিল্পীদের পাশে রাজ্য সরকার।”
২০১০ সালে তন্তুজের অন্তর্ভুক্ত তাঁত শিল্পী ছিলেন মোটামুটি দুশো জন। প্রতি বছর যাঁদের উৎপাদিত বস্ত্রের দাম ছিল প্রায় দশ লক্ষ টাকা। পরবর্তী কালে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে বালুচরী শাড়ির এক্সক্লুসিভ শোরুম তৈরি করা হয়। বর্তমানে তন্তুজের অধীন বালুচরী শিল্পী ও সহায়কের সংখ্যা দু’হাজারের কাছাকাছি। বর্তমানে তন্তুজের বার্ষিক আয় প্রায় দু’কোটি টাকা।