দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: আদিবাসী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের আর্থিক উন্নয়নের জন্য মেদিনীপুর সদর ব্লকের আউসাবাঁধি গ্রামে মাটি সৃষ্টি প্রকল্প রূপায়ণের কাজ শুরু করে দিল প্রশাসন। এর ফলে অন্তত ৩২টি পরিবারের আর্থিক উন্নতি হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
জঙ্গলমহল শব্দটা শুনলে কয়েক বছর আগেও লোকের মনে প্রথমেই ভেসে উঠত মাওবাদীদের কথা। রাজ্যের জঙ্গলমহল মানেই যেন অনুন্নয়ন আর বারুদের গন্ধ। প্রায় প্রত্যেক দিন বোমা নয়তো গুলির শব্দ। এই এলাকার মানুষ বহু বছর ধরে উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও আর্থিক উন্নতি করতে পারছেন না। এখনও তাঁরা আর্থিক দিক থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন।
এই সব আদিবাসী এলাকার মানুষজনের উন্নতির জন্য করোনা আবহের মধ্যেও হাত বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। মেদিনীপুর সদর ব্লকের আউসাবাঁধি গ্রামে শুরু হয়েছে মাটি সৃষ্টি প্রকল্পের কাজ। এই গ্রামে বসবাস করে ৩২টি পরিবার। মোট প্রাপ্তবয়স্কর সংখ্যা ১২৭। প্রত্যেকেই আদিবাসী। জঙ্গলমহলের পিছিয়ে পড়া এই আদিবাসী গ্রামটির আর্থসামাজিক উন্নতির কথা ভেবে গ্রাম সংলগ্ন খাস জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে। বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ১৬ একর জমি। সেখানে লাগানো হচ্ছে অর্থকরী বেশ কিছু গাছ।
১০ একর জমিতে গাছ লাগানো হবে। মূলত কাজুবাদাম, পাতিলেবু ও পেঁপে গাছ লাগানো হচ্ছে। এক বছর পর থেকেই পেঁপে গাছে ফলন ধরবে। কাজুবাদাম ও পাতি লেবু গাছে ফলন শুরু হবে আড়াই থেকে তিন বছর পরে। ছয় একর জমিতে পশুপালন ও মাছ চাষের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পশুপালন বলতে মূলত শূকর পালন করা হবে। জমির চার কোণে চারটি গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে। এই এলাকায় হাতির খুব উপদ্রব রয়েছে। হাতি আটকানোর জন্য পরিখা কাটা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একশো দিনের কাজের মাধ্যমে গ্রামের লোকজনকে দিয়েই এই প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। সবক’টি পরিবারকে নিয়ে একটি সমবায় তৈরি করা হবে। তারাই এই কাজ পরিচালনা করবে।
জেলা প্রশাসন স্থানীয় মণিদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য এটিকে মডেল হিসাবে তৈরি করা। মণিদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অঞ্জন বেরা বলেন, “আশা করি এটি মডেল হিসাবে গড়ে তুলতে পারব। এই গ্রামটিতে আদিবাসী ছাড়া অন্য কোনও পরিবার নেই তাই একে বেছে নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহলে এমন আরও অনেক আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। তাদের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য এই মডেলে কাজ করা হবে।”