দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা সংকটের মধ্যে একাধিকবার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে বাড়তি বিল করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শনিবার জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্যরা। নিউটাউন ক্লাবের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীণ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, মৈত্রেয়ী বন্দ্যোপাধ্যায় ও গোপালকৃষ্ণ ঢালি। বৈঠকের পরে বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে পাঁচ দফা অ্যাডভাইসারি ঘোষণা করা হয়।
তাতে বলা হয়েছে, প্রথমত, ওষুধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাড় না দিলে রোগীর পরিবারকে বাইরে থেকে ওষুধ কেনার অনুমতি দিতে হবে। তৃতীয়ত, তুলো ও সিরিঞ্জের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। চতুর্থত, কোভিড সংকট শুরু হওয়ার আগে ১ মার্চ পর্যন্ত যে বেড ভাড়া ছিল, এখনও তাই নিতে হবে। বেড ভাড়া বাড়ানো চলবে না। পঞ্চমত, কোনও পরিস্থিতিতেই রোগীকে ফেরানো যাবে না। তিনি অগ্রিম টাকা না দিলেও ভর্তি করতে হবে।
এর পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোভিড রোগীকে ভর্তির সময় অবশ্যই তাঁর আত্মীয় অথবা অভিভাবকের নাম, মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে। তাঁর কো-মর্বিডিটি থাকলে তাও লিখতে হবে। প্রত্যেক রোগীর জন্য থাকবে পেশেন্ট মনিটরিং স্কোর। প্রত্যেক রোগীর আত্মীয়স্বজন অনলাইনে জানতে পারবেন, তিনি কেমন আছেন। হাসপাতাল তাঁদের সেই তথ্য জানাবে।
এদিন রাতে আমরি হাসপাতালের গ্রুপ সিইও তথা অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতি আর্থিক বছরে বেসরকারি হাসপাতালের রেট খতিয়ে দেখা হয়। সেই সময় খেয়াল রাখা হয় মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি। সেই অনুযায়ী রেট বাড়ানো হয়। তা পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের বেশি বাড়ে না। প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত হার কার্যকর করা হয়। কোভিডের চিকিৎসার জন্য বেডের চার্জ বাড়ানো হয়নি।
স্বাস্থ্য কমিশনের অন্যান্য অ্যাডভাইসারি সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। সেজন্য কমিশন আমাদের কিছু সময় দিলে ভাল হয়। বেশি বিল করার অভিযোগ সম্পর্কে বলা যায়, বিচ্ছিন্ন দু’-একটি ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু সাধারণত রোগীকে বাড়তি বিল করা হয় না।
এখনও পর্যন্ত করোনার চিকিৎসায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি দুই হাসপাতাল মেডিকা ও ডিসানের বিরুদ্ধে। ই এম বাইপাসের ধারে অবস্থিত মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাঁর বাড়ি ছিল শ্যামনগরে। তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯ লক্ষ টাকার বিল করে ওই হাসপাতাল। এরপরে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে সরব হয়। স্বাস্থ্য কমিশনের নির্দেশে চিকিৎসকের পরিবারকে ছ’লক্ষ টাকা ফেরত দেয় হাসপাতাল।
গত ১৯ অগাস্ট এক মহিলা রোগীকে ডিসান হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতাল তাঁকে ভর্তি করার জন্য অগ্রিম চায় তিন লক্ষ টাকা। তাঁর আত্মীয়স্বজনের কাছে ৮০ হাজার টাকা ছিল। হাসপাতাল তিন লাখের কমে রোগীকে ভর্তি করতে রাজি হয়নি। মহিলা অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরেই মারা যান। এরপর স্বাস্থ্য কমিশন ডিসান হাসপাতালকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।