দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি বুথে কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েন না থাকলে ভোট করা সম্ভব নয়। ‘নো সেন্ট্রাল ফোর্স, নো ডিউটি’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখালেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। কোচবিহারের রামভোলা স্কুল এবং তুফানগঞ্জের এনএনএম হাই স্কুলে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়াল শুক্রবার ।
এ দিন ছিল ভোট কর্মীদের তৃতীয় দফার ট্রেনিং। সেখানেই তাঁরা কমিশন নিযুক্ত আধিকারিকদের থেকে জানতে চান, বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে কি না? অভিযোগ, কমিশনের আধিকারিকরা এ ব্যাপারে কোনও নিশচয়তার কথা শোনাননি। জেলার রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আশ্বাস চান ভোটকর্মীরা। কিন্তু তিনি তা দেননি বলেই অভিযোগ।
প্রশাসনের থেকে কোনও আশ্বাস না পেয়ে কোচবিহারের গুঞ্জুবাড়ি এলাকায় পথ অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় অবরোধের ফলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। এক সরকারি কর্মচারীর কথায়, “আমাদের মনে আছে পঞ্চায়েত ভোট। কেন্দ্রীয়বাহিনী বুথে না থাকলে ভোট করতে যাওয়া মানে নিজের মৃত্যু নিজে ডেকে আনা।” এ ব্যাপারে দ্য ওয়াল-এর তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল জেলার রিটার্নিং অফিসার তথা জেলা শাসক কৌশিক সাহার সঙ্গে। তিনি ফোন তোলেননি। তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ করা হলে, মেসেজ দেখলেও কোনও জবাব দেননি। জবেব পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে তা আপডেট করা হবে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরে দেখা গিয়েছিল ভোটের পর এক প্রিসাইডিং অফিসার নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয় রেল লাইনের ধার থেকে। এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুলকালাম পরে গিয়েছিল। ভোট কর্মীদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয়বাহিনী না থাকলে সুষ্ঠু ভাবে ভোট সম্ভব নয়। রাজ্য পুলিশের উপর তাঁদের কোনও আস্থা নেই বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিন বাংলার নাম না করলেও, ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, বেশ কয়েকটি রাজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে কমিশন। বিরোধীরা প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর দাবিতে সরব। মুকুল রায়রা একাধিকবার কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন। কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন বাংলায় এসেছিল তখনও পঞ্চায়েত ভোটের হিংসার ছবি তুলে দেওয়া ধরা হয়েছিল। মুকুলবাবু তো স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বাংলার পুলিশ দিয়ে ভোট সম্ভব নয়। তার থেকে আগেই তৃণমূলের প্রার্থীকে জয়ী সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া ভাল। ওই ভোটের কোনও মানে হয় না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এত দিন বিরোধীরা বলছিলেন, এ বার ভোটকর্মীরাও কেন্দ্রীয়বাহিনীর দাবিতে সরব হলেন। তাঁদের মতে, বোঝাই যাচ্ছে, রাজ্য পুলিশের উপর ছিটেফোঁটাও ভরসা নেই।