দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর কলকাতার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল বেহালার যোগাযোগ। সেই সময়ে বেইলি ব্রিজ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেটাকেই মডেল করে এ বার উল্টোডাঙা সেতুর বিকল্প হিসেবে তৈরি হচ্ছে বেইলি ব্রিজ।
বৃহস্পতিবার নগরোন্নয়ন দফতরের বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, উল্টোডাঙায় বেইলি ব্রিজ তৈরি করার জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। ওই বৈঠকেই ঠিক হয়, এই ব্রিজ বানানোর বরাত দেওয়া হবে গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সকে। কাজ শুরু হওয়ার দিন সাতেকের মধ্যে ব্রিজ তৈরির কাজ শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য হবে ১৩০ ফুট। ব্রিজের জন্য প্রয়োজনীয় সিভিল কন্সট্রাকশনের কাজ করবে ম্যাকিনটস বার্ন সংস্থা।
উল্টোডাঙা উড়ালপুলে ফাটলের পর কয়েকদিন দুটি লেনই বন্ধ করে দিয়েছিল পূর্তদফতর। তারপর বিমানবন্দরগামী লেনটি চালু হলেও বন্ধ বাইপাসগামী লেন। সংস্কারে লেগে যাবে প্রায় দু’মাস। পুজোর আগে কাজ শেষ হওয়া মুশকিল। তাই সেই চাপ সামাল দিতেই ভিআইপি রোড থেকে কেষ্টপুর খালের উপর 'বেইলি ব্রিজ' তৈরির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের।
বৃহস্পতিবার সল্টলেকের নগরোন্নয়ন দফতরে ডাকা হয় বৈঠক। বৈঠকে দফতরের প্রধান সচিব সুব্রত গুপ্ত সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ডাকা হয় গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স-এর আধিকারিকদেরও। চটজলদি 'বেইলি ব্রিজ' তৈরির ক্ষেত্রে এই সংস্থার সুনাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কোন জায়গায় ব্রিজটি হবে তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রের প্রাথমিক ইঙ্গিত, লেকটাউন ও উল্টোডাঙার মাঝে দক্ষিণদাড়ি-গোলাঘাটা বাসস্টপের কাছ থেকে ব্রিজটি উঠে খাল পেরিয়ে সল্টলেকে পড়বে। এমনিতেই সল্টলেক এখন আগের তুলনায় যানবাহন সঙ্কুল। ফলে ভিআইপি থেকে বাইপাসগামী সমস্ত গাড়ি যদি সল্টলেকে ঢোকে তাহলে পিএনবি বা সিটি সেন্টার (ওয়ান)-এর সামনের রাস্তায় আরও যানজটের সম্ভাবনা থেকে যাবে।
মাঝেরহাটের ক্ষেত্রে বেইলি ব্রিজ করার সময়ে ইঞ্জিনিয়রদের বেশ কয়েকদিন লেগে গিয়েছিল জায়গা চিহ্নিত করতে। এক্ষেত্রে কী হয় এখন সেটাই দেখার।