দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল দু’জনের মধ্যে। দুই পরিবারের লোকই সেটা জানত। অবশেষে বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকে দুই পরিবারের মধ্যে। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রেমিকের আচরণে বদল দেখতে পায় প্রেমিকা। ভেবেছিল সময়ের সঙ্গে সবটা মিটে যাবে। কিন্তু বিয়ের আগে হঠাৎ করেই ৭ লাখ টাকা পণের দাবি করে প্রেমিক। ফলে অবসাদে ভুগতে শুরু করে সে। অবশেষে আত্মঘাতী হয়েছে তরুণী। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জে। সেখানকার দফরপুরের বাসিন্দা অঙ্কিতা দাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল জঙ্গিপুরের বাসিন্দা রাহুল দাসের। জঙ্গিপুর কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী অঙ্কিতা। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা দুই পরিবার জানতে পারে। দুই পরিবারের তরফে অবশ্য এই সম্পর্কে কোনও আপত্তি দেখানো হয়নি। অবশেষে বিয়ের কথাবার্তা শুরু হয় দুই পরিবারের মধ্যে।
সূত্রের খবর, বেশ কয়েক দিন ধরে চাকরির চেষ্টা করছিল রাহুল। কিছুদিন আগে পুলিশে চাকরি পায় সে। অঙ্কিতার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর থেকেই রাহুলের ব্যবহার বদলে যায়। সবাই সেটা বুঝতে পারলেও কেউ সেরকম আপত্তি করেননি। কারণ তাঁরা ভেবেছিলেন সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু হঠাৎ করেই বিয়ের আগে অঙ্কিতার পরিবারের কাছে ৭ লাখ টাকা পণের দাবি করে রাহুল।
জানা গিয়েছে, পণের কথা শুনে হতবাক হয়ে পড়ে অঙ্কিতা। সে চেষ্টা করে রাহুলকে বোঝানোর। কিন্তু কোনও কিছু করেই রাহুলের মন পরিবর্তন করা যায়নি। নিজের পণের দাবিতে অনড় থাকে সে। এদিকে মধ্যবিত্ত পরিবার অঙ্কিতার। তাদের পক্ষে এই পণ দেওয়া সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে রাহুল জানিয়ে দেয়, পণ না পেলে সে বিয়ে করবে না। এরপর থেকেই অবসাদে ভুগতে শুরু করে অঙ্কিতা।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে অঙ্কিতার ঘর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরিবারের অভিযোগ, রাহুলের কাছে অপমানের ফলেই অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছে অঙ্কিতা। রাহুলের কড়া শাস্তির দাবি করেছে তারা। রঘুনাথগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে রাহুলের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।