শেষ আপডেট: 1 June 2020 07:27
ফুচকাপাড়ায় সার সার দাঁড়িয়ে ফুচকাগাড়ি।[/caption]
এই জায়গা থেকে একটু এগিয়ে টাকাগাছের বটতলা এলাকা। সেখানে অবশ্য ৯৪ ঘর যুক্ত রয়েছেন ফুচকার ব্যবসায়। কোচবিহারের এই অংশ যেন ফুচকার রাজত্ব। এখন যাঁরা এখানে ফুচকার ব্যবসা করেন আদতে তাঁরা রংপুর থেকে আসা কৈবর্ত দাস। এক সময় এঁরা যোগ দিয়েছিলেন ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’-এ।
সকালে বটতলার ফুচকাপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল লাইন ধরে ফুচকার গাড়ি। আগে এই এলাকায় গেলেই যেমন বাড়ির ভিতর থেকে ভেসে আসত ফুচকা ভাজার গন্ধ এখন আর তা পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যস্ততা নেই পুরো চত্বরে। কেমন যেন নিঝুম ভাব। আটা মেখে লেচি বানানো, ডাইসে কাটা, কাগজে রেখে শুকিয়ে রাখা – মানে ফুচকা তৈরি প্রায় বন্ধ। এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কমল, সুরেন, মনোজ – এঁরা ছোট থেকেই ফুচকার সঙ্গে যুক্ত। অন্য কোনও কাজ জানেন না। এখন ব্যবসা বন্ধ থাকায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
সরকারি রেশন ওঁরা পেয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থা থেকে যখন যেমন ত্রাণ দিয়েছে সেসবও পেয়েছেন। তবে রোজগার বন্ধ থাকায় সংসারের অন্য খরচ সামলাতে হিমশিম খেকে হচ্ছে তাঁদের।
[caption id="attachment_225842" align="aligncenter" width="787"]
বাড়ির লোকেদের জন্যই ফুচকা ভাজছেন ব্যবসায়ীরা[/caption]
ঘরে বসে এদিন ফুচকা ভাজছিলেন অর্জুন দাস তবে পরিমাণ খুবই কম। বিক্রি নেই তাই বাড়ির লোকে খাবেন বলেই ভাজছেন। কিছু জিজ্ঞেস করার আগে নিজেই বললেন, “কী করব! এতো বছরের অভ্যাস। তাই ভাজছি। বাড়ির লোকেই খাবে।”
সাগরদিঘি চত্ত্বর দিয়ে রাত দশটা নাগাদ লাইন করে ওঁরা গাড়ি ঠেলে নিয়ে ঘরে ফিরতেন। কাচের বাক্সের নীচে পড়ে থাকত কয়েকটা বেঁচে যাওয়া ফুচকা। হাঁড়ির নীচে সামন্য ‘টকজল’ মানে তেঁতুল, বিটনুন, নুন আর কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে তৈরি জল। এই দৃশ্য দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে দেখতে পাননি এলাকার মানুষজন।