দ্য ওয়াল ব্যুরো: দফায় দফায় দীর্ঘ হয়েছে লকডাউন। তার জেরেই মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার মাখনা চাষিরা ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন। এলাকার বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ে মাখনা বাড়তে শুরু করে দিয়েছে কিন্তু ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিক নিয়ে এসে মাখনা তোলার কাজ করতে পারছেন না এলাকার চাষিরা।
মাখনা এক ধরনের বাদাম জাতীয় ফল যার দাম কিলোপ্রতি দেড় হাজার টাকা হয়। এটি মূলত উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় জলাশয়ে ফলে।
প্রধানত বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা হরিশ্চন্দ্রপুরে মাখনা চাষে শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। এঁদের উপরে ভরসা করেই এলাকার চাষি ও ব্যবসায়ীরা মাখনা উৎপাদন করেন। মাখনা তোলা থেকে শুরু করে ঝাড়াই-বাছাই সমস্ত কাজেই পড়শি রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের উপরে ভরসা করা হয়। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের আসার উপায় নেই।
উল্টো ঘটনাও ঘটেছে। মাখনা চাষের জন্য হরিশ্চন্দ্রপুরে এসে আটকেও পড়েছেন অনেকে। তাঁরা যে অঞ্চলে কাজে এসেছিলেন সেখানে কাজ শেষ। তবে অন্যত্র যেতেও পারছেন না। ভিনরাজ্যের লোক শুনলে এখন কেউ এলাকায় ঢুকতেই দেবে না হয়তো। ফলে আটকে পড়া শ্রমিকরা এখন সঙ্কটে পড়েছেন।
শেখ মালেক নামে এক মাখনা চাষি বলেন, “এবার মাখনার বীজের দাম অনেক কমে যাবে। আগের বার ভাল দাম পেয়েছিলাম। এবার লকডাউন এর ফলে দাম পাওয়া যাবে না।” দ্বারভাঙা জেলা থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরে কাজ করতে এসে আটকে পড়া মাখনা শ্রমিক লক্ষ্মী দেবী বলেন, “আমরা লকডাউনের জন্য এবার আটকে পড়েছি। বাড়িতে ফিরতে পারিনি। আমাদের পরিবার আমাদের সঙ্গে এখানেই পড়ে আছে কিন্তু কারও হাতে কোনও কাজ নেই। পয়সা নেই আবার খাবারের সমস্যা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ খলিল বলেন, “লকডাউনের জেরে এবার মাখনার বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাখনা রফতানি করা হয় এমনকি বিদেশেও যায়।”