দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেই বোধহয় বলে মিরাকেল!
পৃথিবীর আলো দেখার চার মাসের মধ্যেই জোড়া রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল হুগলির তারকেশ্বরের এক শিশুর। একদিকে বিরল কাওয়াসাকি এবং তার সঙ্গে করোনার থাবা। শেষপর্যন্ত কাওয়াসাকিকে প্রতিরোধ করে করোনাকেও পরাস্ত করল শিশুটি। কয়েকদিন আগেই বাড়ি ফিরেছে সে। এবং এই ঘটনার পর একাধিক মেডিক্যাল জার্নাল আগ্রহ প্রকাশ করেছে, শিশুটির রোগ হওয়া, চিকিৎসা এবং সেরে ওঠার পুরো সময়টাকে স্টাডি করা হবে।
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয় শিশুটি। স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যান বাবা-মা। কিন্তু দু'তিনদিনের মধ্যেই দেখা যায় শিশুটির সারা গায়ে লাল চাকা চাকা দাগ বেরোচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, কলকাতায় নিয়ে যেতে। পরের দিনই শিশুটিকে মুকুন্দপুর আমরি হাসপাতালে নিয়ে যান বাড়ির লোক। কারণ ওখানেই জন্ম হয়েছিল শিশুটির।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সৌম্যব্রত আচার্যর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। চিকিৎসকরা সন্দেহ করেন বিরল কাওয়াসাকি রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশুটি। যেহেতু এই রোগে হৃদযন্ত্রে প্রভাব পড়ে তাই ইকো কার্ডিয়াম করা শুরু হয়। তাতেই চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন শিশুটির কাওয়াসাকিই হয়েছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, জন্ম হওয়ার ছ'মাসের মধ্যে শিশুদের কাওয়াসাকি হয় না। কিন্তু চার মাসের শিশুর এমন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেশের মধ্যে বিরলতম ঘটনা বলেই মত তাঁদের। চিকিৎসকদের আরও বক্তব্য, কাওয়াসাকির কোনও ওষুধ হয় না। বিভিন্ন রকম মেডিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে শিশুটির শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কলকাতার চিকিৎসকরাও তাই করেন। ব্যবহার করা হয় আইভি গামা গ্লোবিউলিন ও অ্যাসপিরিন। তাতে সাড়াও দেয় সদ্যোজাত। মুকুন্দপুর আমরিতে ভর্তি করার দেড় দিনের মধ্যেই গায়ের চাকা চাকা দাগ মিলিয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু এরপর ফের বিপত্তি।
লালারস পরীক্ষার পর জানা যায় শিশুটির শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ রয়েছে। মুকুন্দপুরের আমরি কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে। কারণ সেটি কোভিড হাসপাতাল নয়। ৬ মে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। বাঙ্গুর কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের হাসপাতালে কোনও চাইল্ড ইউনিট নেই। তাই সেখানে ভর্তি করা যাবে না শিশুটিকে। তাহলে উপায়? এরপর করোনা আক্রান্ত সদ্যোজাতকে পাঠানো হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসা শুরু হয় শিশুটির। গত ১২ মে কোভিড-১৯ কে হারিয়ে দিয়ে তারকেশ্বরের বাড়িতে ফিরেছে শিশুটি।
ইন্ডিয়ান পেডিয়াট্রিক্স জার্নালের দাবি, করোনা সংক্রমণের এই সময়ে বিশ্বে এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে লন্ডনে চার মাসের একটি শিশু কাওয়াসাকির সঙ্গে কোভিড আক্রান্ত হয়েছিল। তারপর এই শিশুটি।