দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে হাওড়ার পাঁচজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং কর্মীকে শো-কজ করল দল। এঁরা হলেন ডোমজুড়ের মাকড়দহ এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কাজল সর্দার, উত্তর ঝাপরদহ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুভাষ পাত্র এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের স্বামী সুমন ঘোষাল, জগতবল্লভপুরের পাঁতিহাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বেচারাম বসু, সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত ঘোষ।
মঙ্গলবার সমবায় মন্ত্রী ও হাওড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সদরের সভাপতি অরূপ রায় জানান, শোকজ করা হয়েছে এই পাঁচ নেতাকেই। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বিলি নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে দলের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্ত করার পর তাঁদের শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। তারপরই দল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান রাজ্য সরকার কোনভাবেই দুর্নীতিকে বরদাস্ত করবে না। ঘূর্ণিঝড়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’’
কিছুদিন আগে মাকড়দহ ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে লাঠি-জুতো নিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। ঘেরাও করেন পঞ্চায়েত অফিস। অভিযোগ, তাঁদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে স্বজনপোষণ করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান। প্রধান কাজল সর্দার অবশ্য পাল্টা দাবি করেন, তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা পাঠালেও প্রশাসনের অসহযোগিতায় গন্ডগোল হয়েছে। সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, ‘‘যাদের অনৈতিকভাবে টাকা দেওয়া হয়েছে তা ফেরত নেওয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরই টাকা দেওয়া হবে।’’
বাংলায় করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই রেশন দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল শাসক দলের একাধিক নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হয়েছিল, ত্রাণ দিতে হলে নিজের পকেট থেকে দিন! ঘূর্ণিঝড় উমফানের তাণ্ডবের পর অভিযোগ উঠতে শুরু করে ত্রাণের টাকা নিয়ে অনিয়মের। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার তিন জেলার নিচুতলার অন্তত এক ডজন নেতাকে শোকজ করে তৃণমূল। এর মধ্যে বর্ধমানের তিনজন, বাঁকুড়ার ছ’জন এবং হুগলির তিনজন।
তৃণমূলের এক শ্রেণির নিচুতলার নেতার বিরুদ্ধে এহেন দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। বছর তিনেক আগে একবার দলের কোর কমিটির বৈঠকে এক বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই বলেছিলেন, অনেককে দেখে মনে হচ্ছে যে সরকার কালই চলে যাবে। আজই আখের গুছিয়ে নিই। ওই বিধায়কের মন্তব্য নিয়ে সেদিন তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল কোর কমিটির বৈঠকে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ হল, গত কয়েক বছরে একসঙ্গে নিচুতলার এতো নেতাকে শোকজ করার ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনাকে একুশের ভোটের সঙ্গে জুড়ে দেখছেন অনেকেই।