দ্য ওয়াল ব্যুরো আগের বারের পুনরাবৃত্তি। তাও গতবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের লেখা ‘নাৎসি জার্মানির জন্ম ও মৃত্যু’র প্রথম সংস্করণ ফুরোতে সময় লেগেছিল তিনদিন। কিন্তু এ বার তাও লাগল না। প্রথম দিনেই স্রেফ ঝড়ের বেগে উড়ে গিয়েছে ন্যাশনাল বুক এজেন্সি (এনবিএ) থেকে প্রকাশিত নতুন বই ‘স্বর্গের নীচে মহাবিশৃঙ্খলা’র প্রথম সংস্করণ। ছাপতে গেল দ্বিতীয় সংস্করণ।
পুজোর সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বুক স্টল খোলে সিপিএম। বিখ্যাত লেখকদের নতুন বই প্রকাশের জন্য তাই এই সময়টাকেই বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু ছাপাখানা থেকে আসতেই উবে গেল প্রথম সংস্করণের সমস্ত কপি। এনবিএ-এর তরফে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী বলেন, “প্রথম দিনই প্রথম সংস্করণ ফুরিয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় সংস্করণ ছাপতে দেওয়া হয়েছে।” তবে প্রকাশনা সংস্থার আশ্বাস, মহালয়ার আগেই যাতে দ্বিতীয় সংস্করণ ছাপিয়ে আনা যায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
চিনের সমাজতন্ত্রের নির্মাণ, বর্তমান সমস্যা ও সম্ভাবনাকে নিজের বইয়ে তুলে ধরেছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা। বই লেখায় হাত দেওয়ার আগে গত কয়েক বছরে চিন সফরে যাওয়া বেশ কয়েকজন দলীয় নেতার সঙ্গে কথাও বলেছেন সিপিএমের প্রাক্তন পলিটব্যুরোর সদস্য। গত বছর শারদীয়ায় সারা রাজ্যে প্রায় কোটি টাকার বই বিক্রি করেছিল সিপিএম। শুধুমাত্র যাদবপুরের এইট বি বাস স্ট্যান্ডের বুক স্টলেই বই বিক্রি হয়েছিল দু’লক্ষ টাকার উপরে। হট কেকের মতো বিক্রি হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বই। অনেকের মতে, এ বারও সেই একই ছবি হতে চলেছে।
প্রকাশনা সংস্থার তরফে প্রথম সংস্করণে কপির সংখ্যা না বলা হলেও, সিপিএম সূত্রে খবর, ১৫ হাজারের মতো বই ছাপা হয়েছিল। কিন্তু জেলাগুলির চাহিদা যা, তাতে প্রথম দিনই নিঃশেষ হয়ে যায় সবটা। সিপিএমের এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের কথায়, “আমিও এখনও বইটা হাতে পাইনি। এনবিএ-এর থেকে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফুরিয়ে গিয়েছে।”
বুদ্ধবাবুর সাহিত্যপ্রেম সর্বজনবিদিত। এর আগে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের দুটি বই চিলিতে গোপনে এবং বিপন্ন জাহাজের এক নাবিকের গল্প বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন বুদ্ধবাবু। চিলির বিশিষ্ট কবি পাবলো নেরুদার কবিতাও অনুবাদ করেছিলেন তিনি। সরকার থেকে বামফ্রন্ট চলে যাওয়ার পর লেখা দুটি বই ‘ফিরে দেখা’, এবং ‘ফিরে দেখা-২’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল বাম কর্মী-সমর্থকদের মনে। এ বারও গৃহবন্দি বুদ্ধবাবুর বই বিকোচ্ছে হু-হু করে।