দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সতর্কতায় দেশ জুড়ে লকডাউনের মাঝেই মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলার ফুসফুস বলে পরিচিত শুশুনিয়া পাহাড়ে আগুন লাগে। বুধবার ফের দুঃসংবাদ। এবার বড়সড় অগ্নিকাণ্ড ঘটল জেলার শিল্পশহর বলে পরিচিত বড়জোড়ায়। পুড়ে ছাই হয়ে গেল শহরের বিজয় ময়দান সংলগ্ন প্রায় দু'শোটি দোকান। ক্ষতির পরিমাণ বেশ কয়েক লক্ষ টাকা বলে প্রাথমিক অনুমান।
এই অগ্নিকাণ্ডের পরে প্রশ্ন উঠেছে দমকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও। আগুন লাগার অন্তত প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বলে অভিযোগ। তাই ঘনবসতিপূর্ণ এই শিল্পশহরে দমকল কেন্দ্র তৈরির দাবিও জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সিপিএম নেতা সুজয় চৌধুরী বলেন, “দুপুর তিনটে নাগাদ বাজারে আগুন লাগে। দমকলে খবর দেওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে তারা পৌঁছয়। সমস্ত অস্থায়ী দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না নিলে আরও বড় ধরেনর ক্ষতি হত বড়জোড়া শহরে।” দ্রুততার সঙ্গে এখানে দমকল কেন্দ্র তৈরির দাবি জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল নেতা সুখেন বিদ বলেন, “ভয়ানক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বেকার যুবকের রুটি-রুজির রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। প্রশাসনিক ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ান হবে।”
https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/2543489542566999/
প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে যে বৈদ্যুতিক শর্ট শার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। আগুনে অন্তত দুশোটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ করছে। বাঁকুড়া শহর থেকে বড়জোড়ায় যেতে এমনিতে আধ ঘণ্টা মতো সময় লাগে। এদিন কেন এত দেরি হয়েছে সে ব্যাপারে এখনও দমকলের কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। এদিন একটি ইঞ্জিন বাঁকুড়া থেকে ও আর একটি ইঞ্জিন মেজিয়া থেকে ঘটনাস্থলে যায়।
বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ও জ্বলছে। শুকনো পাতা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে অনুমান। আগুন আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় এই বিপত্তি। কাল গভীর রাতে বাঁকুড়ার জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। একে শুশুনিয়া পাহাড় জুড়ে আগুন, তার উপরে গভীর রাতে ভূমিকম্প হওয়ায় বাঁকুড়ার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এবার পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হল জেলার সবচেয়ে বড় শিল্পতালুক।