দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হলেন প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক জয়ন্ত ভট্টাচার্য। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি অগ্রগামীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অগ্রগামীর পরিচালনায় বিভিন্ন ছবিতে তিনি নির্দেশকের কাজ করেছেন। 'অগ্রগামী'র প্রথম ছবি ১৯৫৬ সালের 'সাগরিকা' এবং তার পরে 'শিল্পী'। এই সব ছবিতে পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
হাওড়ার রামরাজাতলার কাছে মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোডে থাকতেন জয়ন্ত ভট্টাচার্য (৮৮)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
১৯৫৬ সালে অগ্নিপরীক্ষা ছবিতে তিনি কাজ করেন। ক্যামেরার পিছনে স্বচ্ছন্দ জয়ন্ত ভট্টাচার্যকে পর্দায় দেখা যায় ১৯৭৮ সালে ‘পরশুরাম’ ছবিতে এক ভিক্ষুকের ভূমিকায়। ‘সাগরবলাকা’ (১৯৮৩) ও ‘কোনি’ (১৯৮৪) ছবির চিত্রনাট্য তাঁরই লেখা। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অনুরোধ’ ছবির গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনা – সবই তাঁর।এক সময় তিনি উত্তমকুমারের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
ক্যামেরাম্যান রামানন্দ সেনগুপ্ত 'ডাকহরকরা', 'শিল্পী' প্রভৃতি ছবিতে করা নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, "আসলে জয়ন্ত আমায় এমন ভাবে সিচুয়েশন বোঝাত যে আমার হাত দিয়ে আলো, ছবি - সব যেন আপনিই বেরোত।" তিনি ছিলেন সদা হাস্যময়। সকলের সঙ্গে তিনি অকপটে মিশে যেতে পারতেন। কলাকুশলীদের সঙ্গে তাঁর ছিল সৌহার্দ্যের সম্পর্ক। কাকে কী করতে হবে সে কথা তিনি সাবলীল ভাবে বুঝিয়ে দিতেন। তাই এক সময় স্টুডিওপাড়া. তিনি ছিলেন বেশ জনপ্রিয়।
গোপাল ভাঁড় ও জটায়ুর ভূমিকায় অভিনয় করা বিভু ভট্টাচার্যের দাদা জয়ন্ত ভট্টাচার্যও খুব সাধারণ ভাবেই জীবনযাপন করতেন। বিখ্যাত হয়ে যাওয়ার পরেও বিভু ভট্টাচার্য যেমন বাসে চড়েই অভিনয় করতে যেতেন অনেকটা তেমনই অতি সাধারণ জীবনযাপন করতে দেখা গেছে জয়ন্ত ভট্টাচার্যকেও। ‘অগ্রগামী’র সঙ্গে যুক্ত থেকে এবং নাম-যশের পরেও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। বিভু ভট্টাচার্যের পথপ্রদর্শকও ছিলেন তিনিই। একথা তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
জয়ন্ত ভট্টাচার্যের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অভিনয় জগতে। প্রবীণ অনেক অভিনেতাই তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে জানতেন এবং তাঁর নির্দেশনায় কাজ করেছেন। বুধবার গভীর রাতে নিজের বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়।