দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনাঃ ফের একবার পারিবারিক অশান্তির জেরে বাবার হাতে খুন হতে হল ছেলেকে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার দক্ষিণ ভেবিয়া গ্রামে। মৃত তরুণের স্ত্রীর অভিযোগ, শ্বশুরের হাতেই খুন হতে হয়েছে তার স্বামীকে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, দক্ষিণ ভেবিয়া গ্রামে বাস ছিল সাবির মণ্ডল নামের এক তরুণের। বছর ২২-এর সাবির পেশায় দর্জি। তার বাবা বছর ৪০-এর সাইফুল মণ্ডলের সাইকেল সারাইয়ের দোকান রয়েছে। বছর খানেক আগে নাকি সাইফুলের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এই ঘটনার জন্য ছেলে সাবির ও বউমা রুবি বিবিকে দায়ী করে সাইফুল। তারপর থেকেই ছেলে-বউমার সাথে মাঝেমাঝেই অশান্তি হত তার।
রুবি বিবির অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই অশান্তি হত। দিন দিন গণ্ডগোল আরও বাড়ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের ছেলের সঙ্গে বচসা শুরু হয় সাইফুলের। তখনই নাকি রাগের মাথায় পড়ে থাকা একটি বাঁশ তুলে সাবিরের মাথায় আঘাত করে সাইফুল। সেখানেই পড়ে যায় সাবির। সঙ্গে সঙ্গে রুবির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে হাজির হয়। সবাই মিলে সাবিরকে টাকী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সাবিরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তার স্ত্রী রুবির অভিযোগ, শ্বশুর ইচ্ছে করে রোজ অশান্তি করত। তার সামনেই বৃহস্পতিবার বাঁশ দিয়ে সাবিরের মাথায় মারে তার শ্বশুর। তার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে রুবি।
ঘটনাস্থলে যায় হাসনাবাদ থানার পুলিশ। তারা সাবিরের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। শুধুমাত্র পারিবারিক বিবাদ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই সাইফুল পলাতক। তার খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখছে তারা।