দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছরের ছেলে খুব কাঁদছিল। আর তাই কান্না থামাতে ছেলেকে মাটিতে আছড়ে মারার অভিযোগ উঠল মদ্যপ বাবার বিরুদ্ধে। এমনকি ছেলে মারার যাওয়ার পর তার দেহ মাটিতে পুঁতে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে মালদহের ইংরেজবাজার থানা এলাকার কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়তের পলাশবাড়ি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। তিন বছরের এক মেয়ে ও এক বছরের ছেলে রয়েছে পেশায় দিনমজুর প্রদীপ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী অনিতা বিশ্বাসের। ছেলের নাম সুদীপ। শনিবার রাতে এই ঘটনার পরে রবিবার সকালে গ্রামবাসীদের সামনে সবটা খুলে বলেছেন অনিতা।
সূত্রের খবর, অনিতা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে ছেলে খুব কান্নাকাটি করছিল। মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে তাঁর স্বামী ছেলেকে তুলে আছাড় মারে মাটিতে। এর ফলে মাথায় চোট পায় ছেলে। তিনি তখন রান্নাঘরে ছিলেন। ছেলের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুদীপ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। অনিতা জানিয়েছেন, তিনি দেখেন ছেলের শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই সুদীপের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পরেই প্রদীপ পালিয়ে যায় বলে খবর। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আবার ফিরে আসে। অনিতা জানিয়েছেন, প্রথমে ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেননি তিনি। রাতে স্বামী ফিরে এসে ছেলের দেহ মাটিতে পুঁতে দেয়। অনিতা জানিয়েছেন, প্রথমে ভেবেছিলেন গ্রামবাসীদের সামনে সবটা খুলে বললে হয়তো প্রদীপকে সবাই মিলে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। তাই তখন কিছু না বললেও সকাল হলে সবার সামনে সবটা খুলে বলেন অনিতা।
এই ঘটনার কথা জানতে পেরে গ্রামবাসীরা থানায় অভিযোগ জানানোর কথা বলেছেন। রাজু পাহাড়ি, পাণ্ডব বিশ্বাসদের বক্তব্য, আমরা অনিতার মুখে সব কথা শুনেছি। এরকম ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ইংরেজবাজার থানায় আমরা অভিযোগ করব।
অভিযুক্ত প্রদীপ বিশ্বাস অবশ্য বলেছে, তার ছেলে অসুস্থ ছিল। তাই মারা গিয়েছে। কিন্তু তার কথা বিশ্বাস করতে নারাজ গ্রামবাসীরা। ইংরেজবাজার থানার তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কোনও লিখিত অভিযোগ এখনও জানানো হয়নি। অভিযোগ জানানো হলে তদন্ত শুরু হবে। আইনত সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।