দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনকেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ব্রেন ডেথ হয়েছে ৬ বছরের ছেলের। আর তারপরেই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন তার বাবা-মা। ছেলের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। রাজ্যে প্রথমবার এত অল্প বয়সী কোনও ছেলের পরিবার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রবল জ্বরে ভুগছিল খড়দহ মিশন পাড়ার বাসিন্দা সূর্যপ্রভ চন্দ। দু'দিন পর শনিবার জ্বর ও বমি নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে যান তার পরিবারের লোকেরা। কিন্তু অভিযোগ, প্রথমে ৩টি বেসরকারি হাসপাতাল তাকে ভর্তি করতে চায়নি। ওই অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে অনেক ঘোরার পর নিউটাউনের ভাগীরথী নেওটিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সূর্যপ্রভকে।
চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে পরিবারকে জানান, এনকেফ্যালাইটিস হয়েছে সূর্যপ্রভর। সেখানেই পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা শুরু হয় তার। কিন্তু সোমবার রাতে চিকিৎসকেরা সূর্যপ্রভর পরিবারকে জানান, ব্রেনডেথ হয়েছে তার। তারপরেই বাবা-মা, পরিবারের বাকিদের সঙ্গে কথা বলে সূর্যপ্রভর অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতালের এক প্রতিনিধি দল পৌঁছয় নিউটাউনের ওই বেসরকারি হাসপাতালে। অত ছোট বাচ্চার কোন কোন অঙ্গ নেওয়া সম্ভব, তা এই মুহূর্তে খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। দুপুরের দিকে আসবেন রাজ্য সরকারের ব্রেনডেথ কমিটির সদস্যরা। তাঁরা এসে নির্দেশ দেওয়ার পরেই অঙ্গদান করা সম্ভব হবে সূর্যপ্রভর।
পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত এত ছোট বাচ্চার অঙ্গদান হয়নি। যদি সূর্যপ্রভর অঙ্গদান সম্ভব হয়, তা হলে তা হবে রাজ্যে প্রথম ঘটনা।
তবে অবশ্য সন্তানের মৃত্যুর জন্য হাসপাতালের গাফিলতিকেও দায়ী করেছেন সূর্যপ্রভর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এনকেফ্যালাইটিস হলে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের দরকার হয়। কিন্তু হাসপাতালকে অনেক বলার পরেও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞর দেখা মেলেনি। শনিবার ভর্তি করার দু'দিন পর সোমবার সন্ধেবেলা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ সূর্যপ্রভকে দেখতে আসেন। এমনকী এমআরআই, সিটি স্ক্যান করার জন্যও নাকি অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হতো তাকে। ওই হাসপাতালে এই সুবিধাগুলোও নেই বলে অভিযোগ করেছেন বাচ্চাটির বাবা সুপ্রিয় চন্দ।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/mumbai-attack-most-notorious-terrorist-attack-declares-china/