দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুর্ণীঝড় উমফানে শুধুমাত্র কলকাতায় পড়ে গেছে পাঁচ হাজারের উপরে বড় গাছ। হাওড়া শহরে পড়েছে অন্তত তিন হাজার গাছ। এর ফলে শুধুমাত্র শহরের সবুজই ধ্বংস হয়নি, আগামী দিনে শহরের দূষণ মাত্রাও বাড়তে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
ঝড়ের ধাক্কায় বড় বড় গাছগুলি শিকড় সমেত উপড়ে পড়ে। গাছ পড়ে যাওয়ার পিছনে অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণকে দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা।
পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত অভিযোগ করেন, হাওড়া পুরসভা ১৯৮৫ সালে যেভাবে গাছ বসিয়ে ছিল তাতে কোনও পরিকল্পনার ছাপ ছিল না। রাস্তা কংক্রিটের হওয়ায় শিকড় মাটির বেশি ভিতরে যেতে পারে না কারণ জল ঠিক মতো পায় না। ফলে গাছের গোড়া আলগা হয়। এছাড়া মাটির নীচ দিয়ে জল, বিদ্যুৎ, টেলিফোন এবং ইন্টারনেটের লাইন যাওয়ার ফলে গাছের শিকড় ঠিকমতো প্রসারিত হতে পারে না। এইসব কারণে গাছের গোড়া আলগা হয়ে যায়। তাই ঝড়ের ঝাপটা সহ্য করতে না পেরে পড়ে যায়। তিনি দাবি করেন অবিলম্বে হাওড়া পুরসভা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুক। তাঁরাই ঠিক করবেন শহরের বুকে কী ধরনের গাছ কী ভাবে বসানো যায়।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন কলকারখানা থাকার কারণে হাওড়া শহরে দূষণের মাত্রা এমনিতেই বেশি। শহরের দূষণ কমাতে বৈজ্ঞানিক উপায় গাছ বসাতে হবে। এজন্য তারা হাওড়া পুরসভার দ্বারস্থ হবেন।
হাওড়া পুরসভার প্রসাশক ধবল জৈন বলেন, “আমরা খুব শীঘ্রই একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করব। কমিটির সদস্যরা ঠিক করবেন শহরে কী ভাবে গাছ বসানো হবে।” জানা গেছে এই কমিটি তৈরির ব্যাপারে বোট্যানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে হাওড়া পুর নিগম।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার হাওড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় বৃক্ষ রোপণ করা হয়। শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনেও বৃক্ষ রোপন করা হয়।