দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো ডাক্তার পরিচয় পেতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে গণধোলাইয়ের শিকার হতে হল এক প্রতারককে। করোনার সময় যখন হাসপাতালে ভর্তি হতে সমস্যা হচ্ছে তখন ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ও হাসপাতালে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা টাকা কামিয়েছিল সৌরভ বিশ্বাস নামে ওই যুবক। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার তাকে তোলা হবে বারুইপুর আদালতে।
এলাকা সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বাসিন্দা সৌরভ বিশ্বাস বারুইপুর টংতলার কাছে একটি বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে বছর খানেক ধরে একাই থাকে। নিজেকে এসএসকেএম হাসপাতালের ডাক্তার বলে সে পরিচয় দিয়েছিল। বড়সড় কোনও সমস্যা হলে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতাত। কাউকে কাউকে অবশ্য ভর্তি করিয়েও দিয়েছে বিশ্বাস অর্জনের জন্য।
ফাঁদে পা দেন স্থানীয় বাসিন্দা রিয়া দাস। তাঁর শ্বশুর ক্যানসারে আক্রান্ত। ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এবং লকডাউনের সময় ভাল ওষুধ জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে আট হাজার টাকায় রফা করে। পরে আরও টাকা চায়। সব মিলিয়ে পনেরো হাজার টাকায় রফা হয়। তারাই লোক মারফত প্রথম জানতে পারে যে ওই ব্যক্তি ডাক্তার নয়। হাসপাতালে ভর্তির দালালি করে।
প্রতারণার শিকার স্থানীয় গৃহবধূ আরতি নস্কর জানিয়েছেন তাঁর শ্বশুর অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালের ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে সৌরভ বেশ কয়েক হাজার টাকা নিয়েছে। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সব সদস্যের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চাবি নকল করে আলমারি থেকে সোনার গহনা ও নগদ টাকা হাতানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। খোয়া যাওয়া সোনার গয়নার আনুমানিক বাজার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে দাবি করেছেন ওই গৃহবধূ।
আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজনের থেকেও ডাক্তার পরিচয় দিয়ে লক্ষাধিক টাকা হাতানোর খবর জানতে পেরে সৌরভের বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে আরতি নস্করের পরিবার।
জানা গেছে, লকডাউনের সময় অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ওই ব্যক্তি বারুইপুর থানা এলাকার বিড়াল ধামনগর, দিঘির সান ও টংতলা এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে সব মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়েছে। সে প্রতারক এ কথা জানতে পেরে প্রতারণার শিকার লোকজন এসে হাজির হয়ে তার কাছে টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেন। তখন যুবকের কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে দীঘির সান এলাকার রাস্তায় গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। বিদ্যুতের খুঁটিতে পিছমোড়া করে বেঁধে ও রাস্তায় ফেলে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। মারের চোটে সৌরভ বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে। রোগীর পরিবারের দুর্বলতা বুঝে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতাত বলে সে স্বীকার করেছে । টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বারুইপুর থানার পুলিশ তাকে প্রথমে আটক করে ও পরে গ্রেফতার করে। আজ বুধবার তাকে বারুইপুর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে ডাক্তারদের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ আছে কিনা।