দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সোশ্যাল মিডিয়ায় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সম্পর্কে আপত্তিকর পোস্ট করায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম তাপস বিশ্বাস ও জয়ন্ত নায়েক ওরফে নয়ন রায়। ধৃত তাপস বিশ্বাসের বাড়ি মেমারি থানার মোবারকপুরের কালীতলায়। জয়ন্ত নায়েকের বাড়ি কালনা থানার ইসাবপুরে। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতরা এলাকায় বিজেপির সমর্থক হিসাবে পরিচিত।
শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে তাদের ১০ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। যদিও সওয়াল জবাবের পরে ধৃতদের পাঁচ দিন পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্ত।
কয়েক দিন আগে মেমারি থানায় হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বেশ কয়েক জন কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তার জেরে বেশ কয়েক জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ওই ঘটনার দিন পুলিশ বিজেপির কর্মীদের বেধড়ক মারধর করেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে বেশ কয়েকটি পোস্ট করা হয়। তাতে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মারধরের জন্য স্থানীয় মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে (এসডিপিও) দায়ী করা হয়। তাঁর সম্পর্কে বেশ কয়েকটি ‘আপত্তিকর’ পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সব পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়।
ফেসবুকে এসডিপিওর বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট করার বিষয়টি নজরে আসার পরে মেমারি থানার ওসি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করে তদন্তে নামে পুলিশ। তাতে দেখা যায় নয়ন রায়ের নামে খোলা একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে সেই সব পোস্ট করা হয়েছে। পরে তা ভাইরাল হয়েছে। এ ছাড়াও বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতা এবং আরও কয়েক জনের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে তার মাধ্যমেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত এই ধরনের ন’টি অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। বেশির ভাগ অ্যাকাউন্টই জয়ন্ত নায়েক ওরফে নয়ন রায় চালাত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সাইবার থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “অন্যের ফোন নম্বর ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে নানা ধরনের উস্কানিমূলক প্রচার চালানো হয়েছে। যাঁদের ফোন নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হবে।”