দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে হানা দিয়েছিল হাতি। তারপর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাসবই খেয়ে পালিয়ে গিয়েছে সেই হাতি। এই ঘটনা ঘটেছে জলপাইগুড়িতে।
জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল লাগোয়া শিমূলগুড়ুই গ্রামে আচমকাই হানা দিয়েছিল এক হাতি। গ্রামের বাসিন্দা বছর ৬২-র বৃদ্ধ ফিরা ওরাওয়ের বাড়িতে হানা দিয়েছিল এই হাতি। শুঁড়ের আঘাতে কার্যত তছনছ করে বেড়া দেওয়া গোটা বাড়ি। ভেঙে দেয় অ্যাসবেসটসের চাল। ঘরের ভিতরের সব জিনিসও লণ্ডভণ্ড করে দেয় ওই হাতি।
বাড়িতেই একটি বড় ড্রামের মধ্যে ১৫ কিলো মতো চাল রেখেছিলেন ফিরা ওরাও। সেদিকেই নজর পড়ে হাতিটির। ড্রাম খুলে মনের আনন্দে চাল খেতে শুরু করে গজরাজ। এদিকে চালের ড্রামের মধ্যেই ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাসবই রেখেছিলেন ফিরা ওরাও। চালের সঙ্গে সঙ্গে সেইসবও খেয়ে সাবাড় করেছে হাতিটি।
ফিরা ওরাও জানিয়েছেন, এর আগেও তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল হাতি। সেবারও সব তছনছ করে দিয়েছিল। ক'দিন আগেই মোটামুটি ভাবে বাড়ি সারিয়ে ছিলেন তিনি। তার মধ্যেই ঘটল এই কাণ্ড। স্থানীয়রাও জানিয়েছেন, হামেশাই এই গ্রামে হানা দেয় হাতি। বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গল থেকেই এই হাতিরা আসে বলে অনুমান। বাড়িঘড় ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরে থাকার খাবার জিনিসও সাবাড় করে দেয় হাতির দল।
তবে কাগজপত্র খেয়ে নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। ফিরা ওরাওয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি খেয়ে সাবাড় করেছে গ্রামে হানা দেওয়া হাতি। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ফিরা ওরাও এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কীভাবে এইসব কগজপত্র এখন জোগাড় হবে তাই নিয়েই চিন্তায় রয়েছেন সকলে।