দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও নেই!
উমফান চলে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সপ্তম দিন। এখনও কলকাতা-সহ দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক জেলায় বিভিন্ন অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। তার কোনওটা সিইএসসি আবার কোনওটা রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের অধীনে থাকা এলাকা। কলকাতা, হাওড়ার অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও তা টেম্পোরারি তথা অস্থায়ী সংযোগ। বাসিন্দাদের বক্তব্য, মৌখিক ভাবে সিইএসসি কর্মীরা জানিয়ে গিয়েছেন, এখনই যেন ফ্রিজ, এসির মতো বৈদ্যুতিন যন্ত্র না চালানো হয়।
কলকাতা পুরসভার অনেক ওয়ার্ডে এখনও কারেন্ট নেই। বেহালার শীল পাড়া, পর্ণশ্রী, সখেরবাজার, সরশুনা, ঠাকুরপুকুরের মতো জায়গার বিভিন্ন অংশে ঝড়ের বিকেল থেকে বিদ্যুৎ নেই। মঙ্গলবার দুপুর দুটো পর্যন্ত ওই সব এলাকায় যায়নি সিইএসসির টিম। কারেন্ট নেই বাইপাস লাগোয়া অনেক এলাকাতেও।
পাইকপাড়া, শ্যামবাজার, টালা পার্ক, কাশীপুরের মতো এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে অস্থায়ী সংযোগ দিয়েছে সিইএসসি। যাতে লাইট, পাখা চললেও বাকি আর কিছুই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। টেম্পোরারি সংযোগ দেওয়ার কারণে বহু আবাসনে মোটর চালিয়ে জল তোলার উপায় নেই। তাই কারেন্ট এলেও জলের কষ্ট রয়েই গিয়েছে শহরের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে।
হাওড়া কর্পোরেশনের ৪২,৪৩,৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া এখনও আঁধারে ডুবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সিইএসসির কর্মীরা পাম্প, এসি, ওয়াশিং মেশিনের মতো জিনিস চালাতে বারণ করে গিয়েছেন মৌখিক ভাবে। তাতে আবার সংযোগ চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। উত্তর হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও পানীয় জলের সংকট তীব্র। হাওড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেক নগরের বাসিন্দা প্রবীর ঘোষ বলেন, "পুরসভা যে জল সরবরাহ করছে তা দুর্গন্ধযুক্ত। কাপড়, জামা কাচারও উপায় নেই, খাওয়া তো দূরের কথা।" কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মপুকুর জল প্রকল্পের মেশিন ডুবে যাওয়াতেই এই বিপত্তি। তবে পরিস্থিতি আসতে আসতে স্বাভাবিক হচ্ছে।
হুগলি ও দুই চব্বিশ পরগনার শহর-মফস্বলেও ছবিটা কমবেশি একই রকম। পাণিহাটি, আড়িয়াদহ, ব্যারাকপুর, পলতার বিভিন্ন জায়গায় কারেন্ট নেই। দক্ষিণের বারুইপুর, রাজাপুর-সোনার পুরসভার অনেক এলাকা এখনও বিদ্যুৎহীন। হুগলির ডানকুনি, রিষড়ার গ্রামাঞ্চলে ঝড়ের সময় সেই যে গিয়েছে আর আসেনি।
সাংঘাতিক সংকটের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন রোগীরা। বহু ক্যানসার রোগী, কিডনির অসুখে আক্রান্ত, হৃদরোগীদের জীবন সংকট তৈরি করে দিয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিদ্যুৎ ও জলসংকট।
এই সংকট থেকে মুক্তি কবে? সঠিক ভাবে বলতে পারছে না প্রশাসনও।